28.4 C
Kolkata
Saturday, August 8, 2026
spot_img

১২ বছর স্কুলে যাননি, তবু মাসে মাসে বেতন! তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ মালদহে

Aaj India Desk, মালদহ: প্রায় ১২ বছর ধরে নিয়মিত স্কুলে না গিয়েও বেতন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পার্শ্বশিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, স্কুলে না গিয়ে তিনি এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। অভিযুক্ত ওই শিক্ষক আবার তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সঙ্গে যুক্ত বলেও দাবি বিজেপির (BJP)। ঘটনাকে ঘিরে মালদহের হবিবপুরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রী বর্তমানে একটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান (Panchayat Pradhan)।

কী অভিযোগ?

মালদহের হবিবপুর ব্লকের জাজইল গ্রাম পঞ্চায়েতের আইহো চক্রের কাঁঠাল বানপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্শ্বশিক্ষক মৃগাঙ্ক মোহন রায়ের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এবং হবিবপুরের বিজেপি নেতৃত্ব তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষা দফতরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ত্রিদীপ রায়-সহ কয়েকজন গত ২৭ জুন অভিযোগটি জমা দেন। তাঁদের দাবি, মৃগাঙ্ক মোহন রায় প্রায় ১২ বছর ধরে নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত না থেকেও প্রতি মাসে বেতন নিয়েছেন। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মৃগাঙ্ক মোহন রায়। তাঁর দাবি, অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলা হয়েছে।

কী বলছেন অভিযুক্ত শিক্ষক?

মৃগাঙ্ক মোহন রায়ের বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি কিছু সময় স্কুলে যেতে পারেননি। কিন্তু টানা ১২ বছর স্কুলে যাননি—এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন তিনি। অভিযুক্ত শিক্ষকের আরও দাবি, তাঁর স্ত্রীকে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের পদ থেকে সরানোর উদ্দেশ্যেই এই অভিযোগ করা হচ্ছে। তাঁকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁর স্ত্রীকে প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

মৃগাঙ্কের দাবি, এলাকার কয়েকজন বিজেপির প্রভাবশালী নেতা এই চাপের পিছনে রয়েছেন। তবে গোটা ঘটনার তদন্ত হলে তিনি তদন্তকারী আধিকারিকদের সামনে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন।

প্রধান শিক্ষক কী বলছেন?

কাঁঠাল বানপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিশীথ কুমার পাল অবশ্য ১২ বছর একেবারেই স্কুলে না যাওয়ার অভিযোগ মানতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, মৃগাঙ্ক মোহন রায় মাঝেমধ্যে স্কুলে অনুপস্থিত থাকতেন। তবে টানা ১২ বছর তিনি স্কুলে আসেননি—এমন তথ্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।

বিজেপির অভিযোগ কী?

অন্যদিকে, বিজেপির হবিবপুর মণ্ডল-৪-এর সভাপতি জহর মুর্মু আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, মৃগাঙ্ক মোহন রায় একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের হবিবপুর ব্লক যুব সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর স্ত্রী বর্তমানে জাজইল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান।

জহর মুর্মুর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়েই দীর্ঘদিন স্কুলে অনুপস্থিত থেকেও ওই শিক্ষক বেতন নিয়েছেন। এই অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই শিক্ষা দফতরে অভিযোগ জমা পড়েছে। এখন তদন্তে প্রকৃত ঘটনা কী উঠে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন