Aaj India Desk , বীরভূম : টুলু কাণ্ডের পর এবার পাথর খাদান দুর্নীতি রুখতে কড়া ব্যবস্থা নিতে চলেছে বীরভূম প্রশাসন। পাথর খাদান থেকে খনিজ পরিবহণের রাজস্ব আদায়ে এবার পুরোপুরি অনলাইন ব্যবস্থা শুরু করা হবে। প্রশাসনের দাবি, নতুন ব্যবস্থায় সরাসরি সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে রাজস্ব জমা হবে এবং অনলাইনেই DCR (Duplicate Carbon Receipt) টোকেন পাওয়া যাবে। এর ফলে নগদ লেনদেন ও ভুয়ো DCR ব্যবহারের সুযোগ কমবে।
কী এই DCR?
বীরভূমের বিভিন্ন পাথর খাদান থেকে পাথর নিয়ে ট্রাক বেরোনোর সময় খনিজ সম্পদ পরিবহণ বাবদ রাজ্য সরকারকে নির্দিষ্ট রাজস্ব দিতে হয়। সেই রাজস্ব জমার প্রমাণ হিসেবে দেওয়া হয় DCR (Duplicate Carbon Receipt)।
উল্লেখ্য, রাজস্ব ফাঁকি রুখতে ২০১৬ সালে DCR সংগ্রহের দায়িত্ব বেসরকারি সংস্থার হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বীরভূমে সেই দায়িত্ব পেয়েছিলেন পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল। পরবর্তী সময়ে টুলু মণ্ডলকেই ঘিরে ভুয়ো DCR ব্যবহার এবং রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ সামনে আসে। তবে এবার সেই অনিয়ম যাতে আর না হয়, সেই কারণেই অনলাইন ডিসিআর এর ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে প্রশাসন।
রায়পুর চেক গেটে নতুন ব্যবস্থার সূচনা
ইতিমধ্যেই শুক্রবার মহম্মদবাজার থানা এলাকার রায়পুর চেক গেটে নতুন ব্যবস্থার সূচনা করেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) শুভম আগরওয়াল, সাঁইথিয়ার বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা-সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা। এবার থেকে পাথর খাদানের প্রতিটি চেক গেটে নির্দিষ্ট যন্ত্রের মাধ্যমে অনলাইনে রাজস্ব নেওয়া হবে। সেই যন্ত্র থেকেই DCR টোকেন দেওয়া হবে। অর্থাৎ রাজস্ব জমা এবং DCR পাওয়ার গোটা প্রক্রিয়াই হবে ডিজিটাল।
নগদ লেনদেন বন্ধ করাই লক্ষ্য
নতুন ব্যবস্থায় ট্রাক মালিকরা সরাসরি রাজ্য সরকারকে অনলাইনে রাজস্ব জমা দেবেন। এরপর সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমেই মিলবে DCR টোকেন। প্রশাসনের বক্তব্য, এর ফলে মাঝখানে নগদ টাকা লেনদেন বা অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে। সাঁইথিয়ার বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তাঁর দাবি, পাথর থেকে রাজস্ব আদায় নিয়ে যে অভিযোগগুলি উঠত, নতুন ব্যবস্থায় তার সুযোগ কমবে। নতুন অনলাইন ব্যবস্থা চালুর ফলে এবার রাজস্ব আদায় আরও স্বচ্ছ এবং ভুয়ো DCR ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হয় কিনা সেটাই এখন দেখার।


