Aaj India Desk, বীরভূম : বেআইনি পাথর ব্যবসার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে টুলু মণ্ডলের (Tulu Mondal) প্রভাব ও সাম্রাজ্যের নতুন নতুন তথ্য। এই তথ্যের জেরে টুলুর ক্ষমতার আন্দাজ পেয়ে কার্যত হতবাক তদন্তকারীরাও। তদন্তকারী সংস্থার হাতে আসা তথ্য এবং স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বীরভূমে টুলু মণ্ডলের নির্দেশ ছাড়া বড় কোনও সিদ্ধান্তই নেওয়া হত না। ময়ূরাক্ষী নদী দখল করে বিকল্প রাস্তা নির্মাণ, সেই রাস্তায় টোল আদায়, এমনকি নিজস্ব উদ্যোগে সেতু তৈরির পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি। ঘটনার জেরে মামলার গম্ভীরতা আরোও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
গত বছরের শুরুতে তিলপাড়া ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ মেরামতির জন্য ময়ূরাক্ষী নদীর সেতু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে পাথরবোঝাই লরির চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এরপরই টুলু মণ্ডল (Tulu Mondal) প্রকাশ্যে বিকল্প রাস্তা এবং পরে নতুন সেতু তৈরির পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন।সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেছিলেন, স্থানীয় জমির মালিকদের নিয়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে সেতু চালু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
সেতু তৈরির আগে ময়ূরাক্ষী নদীর উপর হিউম পাইপ ফেলে একটি বিকল্প রাস্তা তৈরি করা হয়। সেই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী ভারী গাড়ি থেকে টোলও আদায় করতেন টুলু। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ওই রাস্তার উদ্বোধনও করেছিলেন টুলু মণ্ডল নিজেই।
উল্লেখ্য, এক সময় মাথায় ঝুড়ি নিয়ে লরিতে পাথর বোঝাইয়ের কাজ করতেন টুলু মণ্ডল (Tulu Mondal)। পরে ধীরে ধীরে তিনি বীরভূমের অন্যতম প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী হিসেবে উঠে আসেন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। প্রশাসনিক পদক্ষেপের জেরে তিলপাড়া ব্যারাজ খুলে দেওয়া হয় এবং অভিযোগের মুখে বন্ধ হয়ে যায় টুলু মণ্ডলের তৈরি বিকল্প রাস্তা। তদন্তে বিপুল সম্পত্তি ও আর্থিক সাম্রাজ্যের তথ্য সামনে আসার পর থেকেই গা-ঢাকা দেন তিনি।


