Aaj India Desk, কলকাতা : বীরভূমের বেআইনি পাথর ব্যবসা ও রাজস্ব ফাঁকির তদন্তে এবার উঠে এল নতুন সূত্র। পলাতক পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের (Tulu Mondal) ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিককে গ্রেফতারের পর তাঁর কাছ থেকে একটি গোপন ডায়রি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ডায়রিতে পুলিশ ও প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের নাম লেখা রয়েছে। সেই ডায়রিকে ঘিরেই এখন তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। পাশাপাশি জাল ডিসিআর ছাপানোর একটি মেশিনও উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই মামলায় টুলু মণ্ডলের প্রায় ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
ডায়রির পাতায় কী সূত্র?
গোপন সূত্রের ভিত্তিতে রবিবার রাতে সিউড়ি এলাকা থেকে সীতেশ প্রামাণিককে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার তাঁকে সিউড়ি জেলা আদালতে পেশ করা হলে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। জিজ্ঞাসাবাদের সময় উদ্ধার হওয়া গোপন ডায়রিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নথি। তদন্তকারীদের দাবি, সেখানে প্রশাসন ও পুলিশের একাধিক আধিকারিকের নাম রয়েছে। সেই নামগুলির সঙ্গে এই চক্রের কোনও যোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কারা ছিলেন এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে?
আদালতে সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, ডায়রিতে লেখা নামগুলি তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তকারীরা এখন যাচাই করছেন, বেআইনি পাথর পাচার ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকির এই চক্র পরিচালনায় কোনও ব্যক্তি বা সরকারি কর্মীর ভূমিকা ছিল কি না। তবে এখনও পর্যন্ত এই ডায়রিতে থাকা নামগুলির বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের স্বার্থে প্রতিটি তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
জাল ডিসিআর চক্রেরও হদিশ
সীতেশের বয়ানের ভিত্তিতে পুলিশ একটি অত্যাধুনিক যন্ত্র উদ্ধার করেছে, যার সাহায্যে ভুয়ো বা ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিট (ডিসিআর) ছাপানো হতো বলে তদন্তকারীদের দাবি।
এর আগে ২৪ জুলাই মহম্মদবাজারে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের অভিযানে একটি পাথরবোঝাই ডাম্পার আটক করা হয়। চালকের দেওয়া ডিসিআর যাচাই করে দেখা যায়, সেই নম্বর সরকারি রেকর্ডে নেই। এরপর মহম্মদবাজার থানায় এফআইআর দায়ের হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই মামলাতেও পলাতক টুলু মণ্ডলকে অভিযুক্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, টুলু মণ্ডলের (Tulu Mondal) সঙ্গে যুক্ত প্রায় ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর তুতো ভগ্নিপতি মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় ৫০ কোটি টাকার নগদ অর্থ ও সোনা। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাঙ্কের স্থায়ী আমানত এবং অন্যান্য সম্পত্তিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এছাড়া টুলু মণ্ডলের অধীনে প্রায় ৪০০ বিঘা জমির ওপর একাধিক স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। তদন্তকারীরা এখন গোপন ডায়রিতে থাকা নাম, আর্থিক লেনদেন, জাল ডিসিআর চক্র এবং এই সিন্ডিকেটের সম্ভাব্য সহযোগীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নতুন তথ্যের ভিত্তিতে এবার তদন্ত আরও বিস্তৃত হতে পারে।


