Aaj lndia Desk,কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরির লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হাজার হাজার যুবক-যুবতীর কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সরকারের অগ্রাধিকার কি কর্মসংস্থান, নাকি শুধুই প্রকল্পভিত্তিক রাজনীতি? গত কয়েক মাসের ঘটনাপ্রবাহ সেই প্রশ্নকেই আরও জোরালো করেছে।
রাজ্য এসএসসি-র অতীতের নিয়োগ সূচি দেখলে দেখা যায়, সাধারণত মার্চ-এপ্রিল অথবা অগাস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ফর্ম ফিলাপ শুরু হতো। এরপর বছরের প্রথম ভাগে (জানুয়ারি-মার্চ) অথবা শেষ ভাগে (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর), বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রবিবার পরীক্ষা নেওয়া হতো। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে সেই পরিচিত ছন্দ যেন ভেঙে গিয়েছে।
অন্যদিকে, স্কুল শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষক সংকট প্রকট। বিভিন্ন মহলের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ৫০ হাজার থেকে ৮০ হাজার শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদের একাংশ যেমন পর্যাপ্ত শিক্ষক পাচ্ছে না, তেমনি চাকরিপ্রার্থীরাও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এরই মধ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে পঞ্চায়েত স্তরের নিয়োগের জন্য ফর্ম ফিলাপ শুরু হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও পরীক্ষার দিন ঘোষণা হয়নি। ফলে পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
অপরদিকে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পকে ঘিরে একের পর এক সময়সীমা, ঘোষণা এবং প্রচার অব্যাহত রয়েছে। সরকারের দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ১.১ কোটি মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় এসেছেন। সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে একই সঙ্গে কি কর্মসংস্থান ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন সমান গুরুত্ব পাচ্ছে?
অনেকেরই অভিযোগ, ভাতা পৌঁছে দেওয়ার প্রশাসনিক তৎপরতা যেমন দ্রুত দেখা যাচ্ছে, সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে সেই একই গতির প্রতিফলন মিলছে না। ফলে অনেকের মনেই তৈরি হচ্ছে এই আশঙ্কা রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু কি ধীরে ধীরে কর্মসংস্থান থেকে সরে গিয়ে শুধুই প্রকল্পনির্ভর জনসংযোগে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে?
একটি রাজ্যের ভবিষ্যৎ শুধু ভাতার উপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা, পর্যাপ্ত শিক্ষক, স্বচ্ছ ও সময়মতো নিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের বাস্তব সুযোগ। কারণ ভাতা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু একটি চাকরি একটি পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তি বদলে দিতে পারে।
আজ পশ্চিমবঙ্গের অসংখ্য চাকরিপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন প্রকল্পের উদ্বোধন, সময়সীমা এবং প্রচারের পাশাপাশি সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণা কি একই গুরুত্ব পাবে? নাকি কর্মসংস্থানের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হবে?


