28.3 C
Kolkata
Monday, August 3, 2026
spot_img

শিশুদের সুস্থ রাখতে কড়া পদক্ষেপ! স্কুলের ৫০ মিটারের মধ্যে আর মিলবে না কোল্ড ড্রিংকস, চিপস

Aaj India Desk, কলকাতা: মহারাষ্ট্র সরকার স্কুলপড়ুয়াদের (School Students) স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও স্কুল চত্বরের ভিতরে বা তার ৫০ মিটারের মধ্যে অতিরিক্ত চর্বি, ট্রান্স ফ্যাট, চিনি এবং লবণযুক্ত জাঙ্ক ফুড (Junk Food) বিক্রি, বিতরণ বা তার প্রচার করা যাবে না। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাবারের (Helthy Food)প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করলেই হবে না, এর পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানো এবং পুষ্টিকর খাবার সহজে পাওয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে।

দিল্লির ম্যাককিউর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ অদিতি সচদেবা বলেন, দিনের একটি বড় অংশ শিশুরা স্কুলেই কাটায়। তাই তাদের খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে স্কুলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, “এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শিশুদের প্রিয় খাবার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া নয়। বরং জাঙ্ক ফুড যাতে প্রতিদিনের খাবারের অংশ না হয়ে ওঠে এবং ছোটবেলা থেকেই লিভার-সহ গোটা শরীর সুস্থ থাকে, সেটাই নিশ্চিত করা।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার (Processed Food), প্যাকেটজাত স্ন্যাকস এবং চিনিযুক্ত পানীয় শরীরে বাড়তি ক্যালোরি যোগ করলেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয় না। এর পরিবর্তে ফল, দুধ, বাদাম এবং সুষম খাদ্য শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের বিকাশ এবং পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে অনেক বেশি কার্যকর।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ, দেশে শিশুদের মধ্যে স্থূলতা এবং অল্প বয়সেই টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। তাই ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। কারণ, শৈশবে যে অভ্যাস তৈরি হয়, তা অনেক ক্ষেত্রেই ভবিষ্যতের জীবনেও বজায় থাকে।

তবে ডাঃ সচদেবার মতে, শুধুমাত্র স্কুলের আশপাশ থেকে জাঙ্ক ফুড সরিয়ে দিলেই সমস্যার পুরো সমাধান হবে না। তিনি বলেন, “এই উদ্যোগ তখনই সফল হবে, যখন ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং খাবার বিক্রেতা—সবাই বিষয়টি নিয়ে সচেতন হবেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার সহজে পাওয়া যায়, দেখতে আকর্ষণীয় হয় এবং সাশ্রয়ী দামে মেলে, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মত, স্কুলে যেমন পুষ্টিকর খাবারের পরিবেশ তৈরি করা দরকার, তেমনই বাড়িতেও অভিভাবকদের সেই অভ্যাস বজায় রাখতে হবে। পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করলেই শিশুদের সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন