নয়াদিল্লি: আদালতের কার্যক্রমের অডিও-ভিডিও (Courtroom videos) রেকর্ড করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতায় এবার লাগাম টানল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বিচারপ্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট অংশ কেটে বিকৃতভাবে প্রচার করে অপপ্রচার চালানো এবং আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে দায়ের হওয়া এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আদালত কোনও ‘২৪ ঘণ্টার এন্টারটেনমেন্ট চ্যানেল’ নয়। তাই সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি ছাড়া এজলাসের কোনও অডিও বা ভিডিও রেকর্ডিং সমাজমাধ্যম বা অন্য কোনও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করা যাবে না।
এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন এক সাংবাদিক। তাঁর অভিযোগ ছিল, আদালতের শুনানির ছোট ছোট অংশ কেটে বা প্রসঙ্গের বাইরে এনে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করা হচ্ছে (Courtroom videos) । এর ফলে সাধারণ মানুষের সামনে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি হচ্ছে এবং বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে সর্বোচ্চ আদালত।
সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আদালতের কার্যক্রমের কোনও অডিও বা ভিডিও প্রকাশ করতে হলে আগে সংশ্লিষ্ট হাই কোর্টের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রার জেনারেলের এবং সুপ্রিম কোর্টের ক্ষেত্রে সেক্রেটারি জেনারেলের অনুমতি নিতে হবে। শুধু সোশ্যাল মিডিয়াই নয়, ইউটিউব বা অন্য যে কোনও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, এই নিষেধাজ্ঞা সংবাদমাধ্যমের নিয়মিত ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। শুনানির সময় কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, বর্তমানে বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে আদালতের শুনানির ভিডিও (Courtroom videos), আইনজীবীদের সওয়ালের ক্লিপ এবং বিচারপতিদের মন্তব্য বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সেগুলি প্রসঙ্গহীনভাবে ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হচ্ছে। তাঁর মতে, এই প্রবণতা বিচারব্যবস্থার মর্যাদার জন্য উদ্বেগের।
এই প্রসঙ্গে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, “ঝুলি থেকে বাঘ বেরিয়ে পড়েছে। এখন আর তাকে সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।” তাঁর এই মন্তব্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচারপ্রক্রিয়ার অনিয়ন্ত্রিত প্রচার নিয়ে আদালতের উদ্বেগই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
শুধু সরাসরি এজলাসের শুনানিই নয়, ভার্চুয়াল কোর্টের ক্ষেত্রেও কড়া অবস্থান নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভার্চুয়াল শুনানির লিঙ্কও নির্বিচারে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ছে, ফলে যাঁদের উপস্থিত থাকার কথা নয়, তাঁরাও অননুমোদিতভাবে শুনানিতে প্রবেশ করছেন। এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছে আদালত।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মেটা, এক্স (X)-সহ একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাকে নোটিস জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের উদ্দেশ্য, বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রেখেও যাতে তা বিকৃত বা বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচারের হাতিয়ার না হয়ে ওঠে, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। আদালতের মতে, বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা অটুট রাখতে আদালতের কার্যক্রমকে ‘ভাইরাল কনটেন্ট’-এ পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।


