নয়াদিল্লি: ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির মাঝেই বার্গার খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দলীয় মুখপাত্রের পদ হারিয়েছিলেন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র অন্যতম মুখ বিজেতা দহিয়া (Vijeta Dahiya)। সেই বিতর্কের দু’দিনের মাথায় অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন তিনি। বহিষ্কারের পর প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দাবি করলেন, গোটা ঘটনায় তাঁকেই অন্যায্যভাবে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে।
সোমবার দিল্লিতে NEET প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে CJP-র ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে (CJP Protest) ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজধানী। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে। ঠিক সেই সময়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় বিজেতা দহিয়ার বার্গার খাওয়ার একটি ভিডিও (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি আজ ইন্ডিয়া)। মুহূর্তের মধ্যে তা নিয়ে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, যখন আন্দোলনকারীরা (CJP Protest) পুলিশের মুখোমুখি, তখন দলের এক শীর্ষ মুখপাত্র কীভাবে নিশ্চিন্তে খাবার খেতে পারেন? বিতর্ক বাড়তেই কড়া পদক্ষেপ করে CJP। এক বিবৃতিতে দল জানায়, আন্দোলনের মতো সংবেদনশীল মুহূর্তে এই আচরণ ‘চরম অসংবেদনশীল’, ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’। এরপরই বিজেতা দহিয়াকে (Vijeta Dahiya) মুখপাত্রের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে বহিষ্কারের পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বিজেতা। তাঁর দাবি, একটি ভিডিওর ভিত্তিতে পুরো ঘটনার দায় একার ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বাস্তব পরিস্থিতি না বুঝেই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং দলের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য তাঁকেই ‘বলির পাঁঠা’ করা হয়েছে। এক ভিডিও বার্তায় দহিয়া (Vijeta Dahiya) জানান, যন্তর মন্তরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় CJP আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকের ফোন আসে।
তিনি দাবি করেন, ফোনে তাঁকে আন্দোলনস্থলে (CJP Protest) যেতে বারণ করা হয় এবং একই সঙ্গে মুখপাত্রের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। দহিয়ার কথায়, “ভেবেছিলাম অভিজিৎ পাশে দাঁড়ানোর জন্য ফোন করেছেন। কিন্তু উল্টে আমাকে জানানো হল, বার্গার বিতর্কের জন্য আমাকে আর যন্তর মন্তরে যেতে হবে না।”
দহিয়ার অভিযোগ, দলের বিরুদ্ধে ওঠা বিতর্কে তিনি সবসময় নেতৃত্বের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অভিজিৎ দীপকের বিতর্কিত ‘কচুরি ভিডিও’ থেকে শুরু করে অন্যান্য সমালোচনার সময়ও তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন। অথচ এবার একটি ভাইরাল ভিডিওর জেরে তাঁকেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি দহিয়ার (Vijeta Dahiya) দাবী, দলের বিরুদ্ধে ওঠা সমালোচনা, অপপ্রচারের জবাব দিতে তিনি সবসময় সামনের সারিতে ছিলেন। অভিজিৎ দীপকের বিতর্কিত ‘কচুরি ভিডিও’ কিংবা প্রতিবাদ মিছিলে ট্রাকে দাঁড়ানো নিয়ে সমালোচনার সময়ও তিনি প্রকাশ্যে নেতৃত্বের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর দাবি, পুলিশের অভিযানের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও টানা দু’রাত যন্তর মন্তরে আন্দোলনস্থলে ছিলেন এবং দলের স্বার্থে হুমকি ও পুলিশি হয়রানিও সহ্য করেছেন।


