Aaj India Desk, কলকাতা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (Netaji Subhas Chandra Bose International Airport) ভেতরে অবস্থিত প্রায় ১৩৬ বছরের পুরনো গৌরীপুর জামে মসজিদে (Masjid) শনিবার থেকে টানা তিন দিনের জন্য নামাজ (Namaj) বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মসজিদটির সংস্কার ও প্রয়োজনীয় নির্মাণকাজের জন্য সাময়িকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ের কাছেই অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মসজিদটি স্থানীয়ভাবে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামেও পরিচিত। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দু’ থেকে তিন দিন ধরে মসজিদে সংস্কারের কাজ চলবে। তাই এই সময়ের মধ্যে কাউকে নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
এদিকে, দমদম উত্তরের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার অভিযোগ করেছেন, বিমানবন্দরের উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে এই মসজিদ থাকার ফলে নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। তাঁর দাবি, বিমানবন্দরে প্রবেশকারী সাধারণ মানুষকে বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হলেও, মসজিদে নামাজ পড়তে আসা বহু মানুষের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম কার্যকর হয় না। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী-সহ বহু ভিভিআইপি এবং প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, এই বিষয়টি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, মসজিদ নিয়ে আলোচনা চললেও নামাজ বন্ধ করার প্রয়োজন ছিল না। তাঁর বক্তব্য, ১৩৫ বছরেরও বেশি পুরনো এই মসজিদকে ঘিরে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব এবং সেই দিকেই এগোনো উচিত। শনিবার সকালে সৌরভ শিকদার এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন। পরে তিনি জানান, নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে নামাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অধিকাংশ মানুষ সম্মতি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, এই বিষয়টি নিয়ে কেউ যেন অযথা উত্তেজনা বা প্ররোচনা না ছড়ায়, সেই আবেদনও করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বহু বছর ধরেই গৌরীপুর জামে মসজিদকে কেন্দ্র করে আলোচনা চলছে। দমদম বিমানবন্দরে দুটি রানওয়ে রয়েছে। প্রধান রানওয়েটি নিয়মিত ব্যবহার হলেও দ্বিতীয় রানওয়ের একেবারে কাছেই রয়েছে এই মসজিদ। বিমান বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধান রানওয়ে বন্ধ থাকলে বড় বিমান পরিচালনায় সমস্যা তৈরি হয়। এছাড়া ভবিষ্যতে দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজেও এই মসজিদ একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি।
এই বিষয়টি নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিধায়ক, মসজিদ কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নিয়ে বৈঠকও হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সমাধানের চেষ্টা চললেও এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বিধায়ক সৌরভ শিকদারের অভিযোগ, অতীতে বামফ্রন্ট ও তৃণমূল সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হয়নি। তবে তাঁর দাবি, বর্তমান সময়ে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


