Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : ‘সেবাশ্রয়’ (Sebashraay) ঘিরে একের পর এক সামনে আসছে দুর্নীতি ও অবহেলার চিত্র। যে প্রকল্পকে বাংলার সেরা স্বাস্থ্য মডেল হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল, সেই প্রকল্পের এই দুর্দশার নমুনা সামনে আসতে শুরু হয়েছে নানান বিতর্ক। এর মধ্যেই আরেকটি গুরতর অভিযোগ উঠতেই স্তম্ভিত মানুষ। অভিযোগ অনুযায়ী, সেবাশ্রয়ে হাঁটুর চিকিৎসায় গিয়ে বাদ পড়েছে গোটা পা। ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে রবীন্দ্রনগর থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।
বিস্ফোরক অভিযোগ পরিবারের
দীর্ঘদিনের হাঁটুর ব্যথার চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলার বাসিন্দা মালতী বিশ্বাস ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সেবাশ্রয় (Sebashraay) স্বাস্থ্য শিবিরে যান। সেখানে তাঁকে ওষুধ দেওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ, প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসকের সই, রেজিস্ট্রেশন নম্বর বা তারিখ ছিল না। প্রায় দু’মাস ওষুধ খাওয়ার পরও ব্যথা না কমে বরং আরও বাড়তে থাকে। পরে তাঁকে সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর এমআর বাঙুর হাসপাতাল, চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হয়ে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা চলে। ২০২৫ সালের ২৭ মে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর ডান পা কেটে বাদ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কৃত্রিম পায়ের সাহায্যে চলাফেরা করছেন।
FIR-এ কী কী অভিযোগ?
রবীন্দ্রনগর থানায় দায়ের হওয়া FIR-এ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলা, ভুল ওষুধ প্রয়োগ, অযোগ্য চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করানো, প্রেসক্রিপশনে অনিয়ম এবং প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর একাধিকবার অভিযোগ জানাতে চেষ্টা করা হলেও তৃনমূল সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কোনও সাড়া মেলেনি।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মালতী বিশ্বাসের পরিবারকে স্বাস্থ্যভবনেও ডেকে পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল সোমবার সকাল ১১টায় সমস্ত চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি নিয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর নথি খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনা সেবাশ্রয় (Sebashraay) প্রকল্পকে ঘিরে চলা বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। এর আগে ডায়মন্ড হারবার ও বিষ্ণুপুর থানাতেও প্রকল্পের চিকিৎসা পরিষেবা, চিকিৎসকদের যোগ্যতা এবং ব্যবহৃত ওষুধ ও যন্ত্রপাতি নিয়ে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। বর্তমান অভিযোগের তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের।


