Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনার পর অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হতে চলেছে। এই চুক্তিকে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে ধাপে ধাপে একাধিক পণ্যের আমদানি ও রপ্তানিতে শুল্ক কমবে (Price Drop)। এর প্রভাব শুধু ব্যবসায় নয়, সাধারণ মানুষের বাজার খরচের উপরও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, শিল্প এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই চুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা মিলতে পারে ব্রিটেন থেকে ভারতে আসা বিভিন্ন প্রিমিয়াম পণ্যের ক্ষেত্রে। আমদানি শুল্ক কমে যাওয়ায় আগামী দিনে স্কচ হুইস্কি, বিলাসবহুল গাড়ি এবং বিভিন্ন ব্রিটিশ ব্র্যান্ডের পণ্যের দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে স্কচ হুইস্কির ওপর দীর্ঘদিন ধরে থাকা উচ্চ শুল্ক ধাপে ধাপে কমানো হবে। তবে বাজারে ঠিক কতটা কম দামে এই পণ্য মিলবে, তা নির্ভর করবে কর, পরিবহন খরচ, ডিলারদের মার্জিন এবং বাজার পরিস্থিতির উপর। তারপরও এই সিদ্ধান্তকে বিদেশি প্রিমিয়াম পণ্যের বাজারে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিলাসবহুল গাড়ির বাজারেও এই চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ব্রিটেনের বিভিন্ন জনপ্রিয় গাড়ি নির্মাতা সংস্থার, বিশেষ করে ল্যান্ড রোভারের মতো ব্র্যান্ডের গাড়ির আমদানি শুল্ক ধাপে ধাপে কমবে। ফলে ভবিষ্যতে এই ধরনের গাড়ির দাম তুলনামূলকভাবে কমতে পারে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গাড়ি সংস্থাগুলির কাছে ভারতের বাজার আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে নতুন বিনিয়োগ বাড়তে পারে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং আধুনিক প্রযুক্তি আদান-প্রদানের পথও আরও সহজ হবে।
অন্যদিকে, এই চুক্তির সুবিধা ভারতীয় রপ্তানিকারকদেরও মিলবে। ব্রিটেনে ভারত থেকে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, গয়না, কৃষিজ পণ্য এবং অন্যান্য উৎপাদিত সামগ্রী আরও সহজে রপ্তানি করা যাবে। শুল্ক কমে যাওয়ায় ভারতীয় পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে। এর ফলে ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং বড় শিল্প সংস্থাগুলির ব্যবসা বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে যৌথ উদ্যোগ, নতুন বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও বাড়তে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আগামী কয়েক বছরে ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে সাহায্য করবে। তাই এই চুক্তিকে শুধু একটি বাণিজ্যিক সমঝোতা হিসেবে নয়, বরং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৫ জুলাই থেকে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ধীরে ধীরে এর প্রভাব দেশের বাজারে দেখা যেতে শুরু করবে। একদিকে আন্তর্জাতিক মানের কিছু পণ্য তুলনামূলক কম দামে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে ভারতীয় শিল্প, রপ্তানি, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন সবার নজর ১৫ জুলাইয়ের দিকে, যেদিন থেকে এই ঐতিহাসিক চুক্তির বাস্তব প্রভাব ধাপে ধাপে সামনে আসতে শুরু করবে।


