Aaj India Desk, বাঁকুড়া : একদিনের মধ্যেই ওলট পালট দলের কাঠামো। তৃনমূলের নেতাদের বিজেপির ঘরে জায়গা দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে ফাটল। এই নিয়ে নানান জল্পনা কল্পনা চলার মাঝেই বিস্ফোরণ ঘটালেন বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা (Niladri Sekhar Dana)। বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের ডাকা অর্থ কমিশনের পরিকল্পনা সংক্রান্ত বৈঠকে যোগ দিয়েও মাঝপথে বেরিয়ে গেলেন তিনি। বৈঠক ছাড়ার কারণ হিসেবে স্পষ্ট বাক্যে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন তিনি।
কেন বৈঠক ছাড়লেন?
বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে নীলাদ্রিশেখর দানা (Niladri Sekhar Dana) বলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে তাঁর কর্মীদের মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এবং যাঁদের জন্য তাঁকে বিনা কারণে জেল খাটতে হয়েছে, তাঁদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে চা খেতে তিনি রাজি নন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ চার দশক ধরে তিনি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত এবং ব্যক্তিগত অবস্থান থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, দলের নেতৃত্বকে তিনি সম্পূর্ণ সম্মান করেন এবং তাঁদের নির্দেশ মেনেই চলেন। তবে নিজের নীতিগত অবস্থান থেকে তৃনমূল নেতাদের সাথে একসঙ্গে বসে কাজ করতে তিনি রাজি নন।
অন্যদিকে বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা তৃণমূল নেত্রী অনসূয়া রায় জানান, নীলাদ্রিশেখর দানা (Niladri Sekhar Dana) বৈঠক থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন কি না, তা তাঁর জানা নেই। তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর কাছে কোনও তথ্য নেই। বিধায়কের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কোনও বিরোধ বা শত্রুতা নেই বলেও দাবি করেন অনসূয়া রায়।
ক্রমশ জটিল অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি
উল্লেখ্য, তৃণমূলে একের পর এক নতুন মুখের যোগদান যেমন দলের সাংগঠনিক বিস্তারের বার্তা দিচ্ছে, তেমনই নিচুতলার একাংশের কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষও প্রকাশ্যে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের জন্য কাজ করা কর্মীদের অভিযোগ, তৃণমুল নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় তাঁদের গুরুত্ব কমছে। অথচ তারাই এতদিন এদের বিরুদ্ধে লড়াই করে বঙ্গে বিজেপির আসার পথ প্রশস্ত করেছিলেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই অসন্তোষ যদি সময়মতো সামাল দেওয়া না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে বিজেপিরও তৃনমূলের মতো খণ্ডিত দলে পরিণত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে দলের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।


