নয়াদিল্লি: সম্প্রতি এলাহাবাদ হাই কোর্ট রায় দিয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও ১৮ বছরের কম বয়সি মেয়ের বিয়ে আইনত বৈধ নয় এবং এমন ক্ষেত্রে পকসো আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা যেতে পারে। এই রায়ের পর মুসলিম পার্সোনাল ল’ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই মৌলানা রশিদির (Maulana Rashidi) চাঞ্চল্যকর বয়ানে দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মৌলানা সাজিদ রশিদি বলেন, “বিয়েতে দেরি হওয়ার কারণেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। আপনারা যদি আপনাদের মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান, তাহলে তাদের তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিন।” তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মৌলানার মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন একাধিক বিজেপি নেতা। ঝাড়খণ্ড বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বাবুলাল মারান্ডি বলেন, যাঁরা দেশের সংবিধান মেনে চলতে চান না, তাঁদের এই দেশে থাকার অধিকার নেই; তাঁরা চাইলে দেশ ছেড়ে চলে যেতে পারেন।
অন্যদিকে বিজেপি নেতা সৈয়দ শাহনাওয়াজ হুসেনও রশিদির (Maulana Rashidi) বক্তব্যের নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, “এমন মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। এই ধরনের মন্তব্য করে উনি পুরো সম্প্রদায়কেই বদনাম করছেন। ওঁর এমন ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়। তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত।”
যেখানে ভারতে ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB) এর প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১৬ থেকে ১৮ মিনিটে একজন নারী ধর্ষণের শিকার হন। সেই হিসেবে প্রতি মিনিটে এই ঘটনার হার প্রায় ০.০৫ থেকে ০.০৬। সেই দেশে একজন মৌলানার এই মন্তব্য শুধুমাত্র মুসলিম সমাজ নয়, বরং দেশের সামগ্রিক নারী নিরাপত্তারও পরিপন্থি বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
মৌলানা সাজিদ রশিদির (Maulana Rashidi) মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের বক্তব্য, ধর্ষণের মতো অপরাধের দায় কখনও নারীর বয়স বা বৈবাহিক অবস্থার উপর চাপানো যায় না! অপরাধের জন্য দায়ী একমাত্র অপরাধী। অন্যদিকে, এই বিতর্কের মধ্যে এখনও পর্যন্ত মৌলানা সাজিদ রশিদির তরফে নতুন কোনও ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।


