Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে (Baruipur Case) নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলার মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের (Prabhas Mondal) পুলিশি এনকাউন্টারে (Encounter) মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার পর বর্তমান রাজ্য সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন জানালেন বারাসতের কামদুনি (kamduni) আন্দোলনের দুই পরিচিত মুখ টুম্পা কয়াল (Tumpa Koyal) ও মৌসুমি কয়াল (Mousumi Koyal)। তাঁদের বক্তব্য, কামদুনির ঘটনায় তাঁরা আজও প্রকৃত বিচার পাননি, তাই বারুইপুরে পুলিশের এই পদক্ষেপকে তাঁরা স্বাগত জানাচ্ছেন।
পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য গভীর রাতে প্রভাস মণ্ডলকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় অভিযুক্ত নাকি এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় প্রভাসের। এই ঘটনার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।
এনকাউন্টারের খবর সামনে আসার পর টুম্পা ও মৌসুমি কয়াল বলেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে কামদুনির ঘটনায় তাঁরা এখনও ন্যায়বিচারের স্বাদ পাননি। তাঁদের মতে, ধর্ষণের মতো নৃশংস অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাঁদের কথায়, “যারা এমন অপরাধ করে, তাদের সমাজে বেঁচে থাকার অধিকার নেই। কঠোর শাস্তি হলে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ অনেকটাই কমবে।”
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে বারাসতের কামদুনিতে এক কলেজছাত্রীকে অপহরণ, গণধর্ষণ এবং খুনের ঘটনা গোটা রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এলাকায় গেলে বিক্ষোভের মুখে পড়েন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, তাঁদের দাবিকে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টে কটাক্ষ করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর টুম্পা ও মৌসুমি দীর্ঘদিন ধরে বিচার চেয়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।
কামদুনি মামলায় ২০১৬ সালে নিম্ন আদালত তিন অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। পরে কলকাতা হাইকোর্টে সেই রায়ে পরিবর্তন আসে। পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব এবং তদন্তে ত্রুটির কথা উল্লেখ করে হাইকোর্ট দু’জনের যাবজ্জীবন সাজা বহাল রাখে এবং বাকি তিনজনকে খালাস দেয়।
মৌসুমি কয়ালের অভিযোগ, আগের সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট কঠোর অবস্থান নেয়নি। তাঁর দাবি, যদি তখনই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যেত, তাহলে রাজ্যে নারী নির্যাতনের ঘটনা অনেকটাই কমতে পারত। বারুইপুরের ঘটনায় পুলিশের পদক্ষেপকে তিনি কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতেও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে একই ধরনের দৃঢ় অবস্থান নেওয়া হবে।


