Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগণা: বারুইপুরে (Baruipur Case) নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলার মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে (Encounter) মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হল। মঙ্গলবার গভীর রাতে পুলিশের গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যুর পর বুধবার বারুইপুরে পৌঁছন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। তিনি নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুলিশের এনকাউন্টার নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন।
পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে অপরাধের পুনর্নির্মাণের সময় প্রভাস মণ্ডল এক পুলিশকর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করেছিল। সেই দাবি নিয়েই কটাক্ষ করেন অধীর চৌধুরী।’লস্কর-জঙ্গি এলে পুলিশ কী করবে?’
সাংবাদিকদের সামনে অধীর চৌধুরী বলেন, “আমার ভাবতেই অবাক লাগছে, যে লোকটা খালি হাতে গ্রামের মানুষকে নিয়ে নাবালিকার দেহ খুঁজতে গিয়েছিল, সেই পুলিশের বন্দুক কেড়ে নিল! আরও অবাক লাগছে, একজন চুল্লুখোর, মাদকখোর ভ্যানচালক শুধু বন্দুকই কেড়ে নিল না, এক রাউন্ড গুলিও চালিয়ে দিল। তাহলে আমাদের পুলিশের অবস্থা কী?”
এরপরই তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আজ যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে কাল জয়েশ-ই-মহম্মদ বা লস্কর-ই-তৈবার মতো কোনও জঙ্গি সংগঠন এ রাজ্যে এলে পুলিশ কী করবে? তারা কীভাবে সেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করবে?”
এই ঘটনার প্রসঙ্গে রাজ্যের পুলিশ ব্যবস্থার সমালোচনা করে অধীর চৌধুরী বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রীকে বলব, আগে রাজ্য পুলিশকে আরও শক্তিশালী করুন। গত ১৫ বছরে পুলিশের মাজা ভেঙে গেছে। আগে পুলিশের মাজা সোজা করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “মানুষের অভাব-অভিযোগ প্রশাসনকে গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে। পুলিশের উপর সাধারণ মানুষের যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা দূর করে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”
বারুইপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা যখন তুঙ্গে, তখন অধীর রঞ্জন চৌধুরীর এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল। একজন মাদকাসক্ত ভ্যানচালক কীভাবে পুলিশের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিল— সেই প্রশ্ন তুলে তিনি পুলিশের বয়ান নিয়েই সংশয় প্রকাশ করেন।


