Aaj India Desk, কলকাতা : বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পর জনরোষে মৃত্যু হয়েছিল ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক অটোচালকের। ঘটনার পর আইনি এবং বিচারিক পদ্ধতি নিয়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যেই সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর (Sujan Chakraborty) বক্তব্য ফের নতুন সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বুধবার তাঁর মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র মতবিনিময়। প্রশ্ন উঠছে, জনরোষ আর আইনের শাসনের মধ্যে সীমারেখা আসলে কোথায়?
বারুইপুরের ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তীব্র জনরোষ ছড়িয়ে পড়েছিল এলাকায়। উত্তেজিত জনতা ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক ২৬ বছর বয়সি অটোচালককে ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গণপিটুনি দেয়, যার ফলে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পুলিশি তদন্তে ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে আসে যে, গণপিটুনিতে নিহত ওই যুবক সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন।
এরপর বুধবার সামাজিক মাধ্যমে সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakraborty) লেখেন, বারুইপুরের ঘটনা নৃশংস এবং পুলিশের ব্যর্থতায় জনরোষ স্বাভাবিক। তবে বাস্তব ঘটনাকে অস্বীকার করে শুধুমাত্র রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক রং দেওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কে নির্দোষ, কাকে গ্রেফতার করা হবে এবং কী শাস্তি হবে, এসব কি কোনও রাজনৈতিক নেতৃত্ব ঠিক করবে?” তাঁর মতে, বিচার প্রক্রিয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রাধান্য পেলে তা আইনের শাসনের পরিপন্থী এবং স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতার ইঙ্গিত বহন করে।
পোস্টটি প্রকাশের পরই সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া সামনে আসে। একাংশের দাবি, জনরোষ কখনও কাউকে পিটিয়ে হত্যা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বৈধতা দিতে পারে না। তাঁদের বক্তব্য, কে অভিযুক্ত বা নির্দোষ, তা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের, জনতার নয়। এবার এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে উঠে আসছে অন্য বার্তা। বাম সমর্থকদের মতে, নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশ ডায়রি নিতে অস্বীকার করায় সেই নিষ্ক্রিয়তার কথাই তুলে ধরতে চেয়েছিলেন সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakraborty)। পাশাপাশি ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টার ও আইনি শাসন ঘিরেও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
তবে এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে ফের সামনে এল একটি মৌলিক প্রশ্ন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পথ কি জনরোষ, নাকি আইনের শাসন, সেই প্রশ্ন ঘিরেই এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে আলোচনা অব্যাহত।


