Aaj India Desk, কলকাতা : সম্প্রতি কামারহাটি পুরসভা বিজেপির দখলে চলে গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল বিজেপি সমর্থকদের পক্ষ থেকে। এমন প্রচারের মধ্যেই দলের অন্দরে শোনা গেলো ভিন্ন সুর। সোমবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) স্পষ্ট জানালেন, দল কোনও ভিত্তিহীন ‘বোর্ড গঠন’ বা ‘দখলদারি’র প্রচারকে সমর্থন করে না। একই সঙ্গে কামারহাটি পুরসভা নিয়ে কীসের ভিত্তিতে এই দাবি করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে সোমবার বিকেল ৪টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
কামারহাটি পুরসভার ৩৫ সদস্যের বোর্ডে দীর্ঘদিন তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। তবে পুরপ্রধান গোপাল সাহার পদত্যাগ এবং আরও কয়েকজন কাউন্সিলরের ইস্তফার পর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়। এরপর গত শুক্রবার ২৫ জন কাউন্সিলরকে নিয়ে হওয়া বোর্ড বৈঠকে নির্দল কাউন্সিলর সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় নতুন পুরপ্রধান নির্বাচিত হন। তিনি বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়ের ভাই হওয়ায়, বিজেপির একাংশ দাবি করতে শুরু করে যে কামারহাটি পুরসভায় কার্যত ‘পদ্ম ফুটেছে’।
সোমবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন উপলক্ষে মুরলিধর সেন লেনে বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই বিষয়ে মুখ খোলেন শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। দলের একাংশের সাম্প্রতিক ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “যে কেউ আসবে, যে কেউ নিজেকে কাউন্সিলর বানিয়ে ফেলবেন কলকাতা কর্পোরেশন, বড়ানগর, কামারহাটি বা বিধাননগর কর্পোরেশনের— আর পার্টি চুপ করে মেনে নেবে? এটা হতে দেওয়া যাবে না।”
কামারহাটি পুরসভা নিয়ে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং কোন ভিত্তিতে বিজেপির বোর্ড গঠনের দাবি করা হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট সোমবার বিকেল ৪টার মধ্যে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তীর কাছে জমা দিতে হবে বলেও জানিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)।
রাজ্য সভাপতির নির্দেশের পর এখন নজর বিকেল ৪টার রিপোর্টের দিকে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব কামারহাটি পুরসভা ইস্যুতে পরবর্তী অবস্থান বা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয় কি না, সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলের প্রধান আলোচনার বিষয়।


