কলকাতা: নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় রবিবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বারুইপুর (Baruipur unrest)। এদিন সকালে পুকুরে নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর দফায় দফায় অশান্ত হয়ে ওঠে বারুইপুরের কুলপি রোড। রাস্তা অবরোধ করে মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা। এদিকে বিক্ষোভ চলাকালীন এক অভিযুক্তকে ধরে গণপিটুনি দেয় উত্তেজিত জনতা। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের নাম ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬) বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয়দের দাবী, নাবালিকার খুন-ধর্ষণের ঘটনায় যে ৪-৫ জন জড়িত ছিল, তাঁদের মধ্যে ইন্দ্রজিৎ-ও ছিল।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের উপরও হামলা চালায় এবং সূর্যপুর পুলিশ ক্যাম্পে ভাঙচুর করে। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে দেখানো হয় বিক্ষোভ (Baruipur unrest)। একইসঙ্গে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নামখানা লাইনে ট্রেন অবরোধের জেরে দীর্ঘক্ষণ ব্যাহত হয় রেল পরিষেবা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও (Baruipur unrest)। প্রশাসনের তরফে মাইকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়।
অন্যদিকে, ঘটনার পর নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মঙ্গলবার ভবানীভবনে গিয়ে দেখা করার আহ্বান জানান। পরিবারের সমস্ত দাবি গুরুত্ব সহকারে শোনা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এলাকায় এখনও থমথমে পরিবেশ। প্রসঙ্গত, শনিবার বিকেলে নিখোঁজ হয় ১১ বছর ওই নাবালিকা। রাতভর নিখোঁজ থাকার পর রবিবার সকালে পুকুর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয়দের দাবী, গতকাল ৪-৫ জন ওই নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের পাশাপাশি গণপিটুনিতে অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনাও পৃথকভাবে তদন্ত করছে পুলিশ। দুই ঘটনারই পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।


