Aaj India Desk, কলকাতা : দেবরাজ চক্রবর্তীর (Debraj Chakraborty) বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে আরও সক্রিয় হল বিধাননগর পুলিশ। প্রথম নোটিসে হাজিরা না দেওয়ায় তাঁর ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর এবং এক ছায়াসঙ্গীদের দ্বিতীয়বার তলব করেছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। একই সঙ্গে গোটা সিন্ডিকেটের কার্যপদ্ধতি খতিয়ে দেখতে অন্তত ৩০ জন জনপ্রতিনিধিকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের দাবি, গতকাল বাগুইআটি থানায় হাজিরার জন্য প্রথম দফায় ৪ জন প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং দেবরাজের (Debraj Chakraborty) এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তবে তাঁরা কেউই হাজির হননি। এরপরেই ৬ প্রাক্তন তৃনমূল কাউন্সিলর এবং দেবরাজের এক ছায়াসঙ্গীকে এই দ্বিতীয় নোটিশ পাঠিয়ে তলব করা হয়।
এই তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাঁরা হলেন –
- বিনু মণ্ডল (প্রাক্তন কাউন্সিলর, ২৭ নম্বর ওয়ার্ড)
- মণীশ মুখোপাধ্যায় (প্রাক্তন কাউন্সিলর, ২৪ নম্বর ওয়ার্ড)
- গোপাল বাগুই (প্রাক্তন কাউন্সিলর)
- সুশোভন মণ্ডল ওরফে মাইকেল (প্রাক্তন কাউন্সিলর)
- সমরেশ চক্রবর্তী (প্রাক্তন কাউন্সিলর)
- সম্রাট বড়ুয়া (প্রাক্তন কাউন্সিলর)
- রতন মৃধা (দেবরাজের ঘনিষ্ঠ ছায়াসঙ্গী)
তদন্তকারীদের দাবি, এঁরা প্রোমোটারদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করতেন। SIT সূত্রের দাবি, দেবরাজ চক্রবর্তীর কথিত তোলাবাজি চক্রের সঙ্গে বিধাননগর, রাজারহাট, নিউটাউন এবং দক্ষিণ দমদম এলাকার অন্তত ৩০ জন জনপ্রতিনিধিরও যোগাযোগ রয়েছে বলে তদন্তে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। পর্যায়ক্রমে তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও (ED)। ইতিমধ্যেই একটি Enforcement Case Information Report (ECIR) দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকার সম্পত্তির উৎস এবং সম্ভাব্য মানি লন্ডারিংয়ের দিকটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিন্ডিকেট কীভাবে পরিচালিত হত, অর্থ সংগ্রহ ও বণ্টনের প্রক্রিয়া কী ছিল এবং কারা সেই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তা স্পষ্ট করাই তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য। দ্বিতীয় দফার জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।


