কলকাতা: তারাতলায় গুদাম ধসে (Taratala Tragedy) শ্রমিকদের মৃত্যু ও আহতের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। প্রাথমিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ পরিকল্পনার কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে নোটিস জারি করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। তাঁদের দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টে দুর্ঘটনার কারণ, তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি এবং মৃত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে কি না, সেই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য উল্লেখ করতে হবে।
কমিশন জানিয়েছে, ২৪ জুন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তারা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি নথিভুক্ত করেছে। ঘটনায় অন্তত পাঁচজন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলেও, পরবর্তীতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ১৫ জনে পৌঁছায়। আহত হন বহু শ্রমিক। দুর্ঘটনার সময় ধ্বংসস্তূপের (Taratala Tragedy) নিচে ১২ থেকে ১৫ জন আটকে পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছিল।
২৫ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুর্ঘটনার সময় প্রায় ৪০ জন শ্রমিক নির্মাণস্থলে কাজ করছিলেন। লোহার কাঠামোর ওপর কংক্রিট ঢালাই চলাকালীন আচমকাই গোটা কাঠামো ভেঙে পড়ে, ফলে বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) পর্যবেক্ষণ, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য সঠিক হলে এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা। তাই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং প্রশাসনের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই দুর্ঘটনার (Taratala Tragedy) তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি আরও ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যানেই ত্রুটি ছিল, যার জেরেই এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে।


