Aaj India Desk, কলকাতা : হকার উচ্ছেদের পর সম্প্রতি রেলের নিয়মে একাধিক বদল এনেছে রেল কর্তৃপক্ষ (Indian Railways)। নতুন চালু হওয়া নিয়মে জরিমানার অর্থ আরও বাড়ানো হয়েছে। তবে সেই নিয়মের তালিকায় এবার ভিক্ষা চাওয়াকেও বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ভারতীয় রেলওয়ের স্টেশন চত্বর বা ট্রেনে অনুমতি ছাড়া ভিক্ষা করা কিংবা হকারি করে পণ্য বিক্রি করলে ২০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আইন অনুযায়ী এই ধরনের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ বলা হয়েছে।
কী কী নিষিদ্ধ?
রেল আইনের অধীনে ট্রেনের কামরা, প্ল্যাটফর্ম বা স্টেশনের অন্য কোনও অংশে লাইসেন্স বা অনুমতি ছাড়া পণ্য বিক্রি, প্রচার বা হকারি করা নিষিদ্ধ।একইভাবে ট্রেন বা স্টেশনে ভিক্ষা করাও আইনত অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের (Indian Railways) দাবি, এসব কর্মকাণ্ড অনেক সময় যাত্রীদের অসুবিধা, ভিড় এবং নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শুধু তাই নয়, রেলওয়ের সাম্প্রতিক বিধি অনুযায়ী বিনা টিকিটে ট্রেনে যাত্রা করলে ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এছাড়া স্টেশনের যাত্রী এলাকায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশের জন্যও জরিমানার বিধান দেওয়া হয়েছে। ট্রেন বা স্টেশনে ধূমপানের ক্ষেত্রেও ২০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
কত জরিমানা হতে পারে?
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী প্রথমবার ধরা পড়লে সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। কিছু ক্ষেত্রে কঠোর আইনি ব্যবস্থা বা কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ বা অনুমোদিত কর্মীরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ট্রেন বা স্টেশন এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
রেলওয়ের (Indian Railways) যুক্তি, প্রতিদিন কোটি কোটি যাত্রী ট্রেন ও স্টেশন ব্যবহার করেন। অনুমতিহীন হকারি বা ভিক্ষাবৃত্তি অনেক সময় যাত্রীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ায়। এছাড়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিক্রেতাদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত পরিষেবা নিশ্চিত করাও এই নীতির অন্যতম লক্ষ্য।
তবে এই নিয়ম ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সমাজকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীদের একাংশের মতে, বহু ভিক্ষুক চরম দারিদ্র্য, প্রতিবন্ধকতা বা কর্মসংস্থানের অভাবে এই পথে আসেন। তাঁদের ওপর ২০০০ টাকার জরিমানা আরোপ করলে সমস্যার মূল কারণ দূর হয় না। সমালোচকদের দাবি, জরিমানার পাশাপাশি পুনর্বাসন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের ওপর আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন।


