Aaj India Desk, কলকাতা : পুলিশ হেফাজতে তৃণমূল কর্মী বিরজুর মৃত্যুর ঘটনায় এবার বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার সকালে মন্ত্রী অর্জুন সিং, সুমনা সরকার, স্থানীয় বিধায়ক, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং বারাকপুরের সিপিকে সঙ্গে নিয়ে হালিশহরে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর দ্রুত অ্যাকশন নিলেন তিনি।
পরিবারের সঙ্গে দেখা মুখ্যমন্ত্রীর
হালিশহরে গিয়ে নিহত বিরজু কুমারের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মৃতের স্ত্রী তাঁকে লিখিত চিঠি দিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। শুভেন্দু বলেন, পুলিশ হেফাজতে বিরজুর মৃত্যু হয়েছে, “তা দিনের মতো সত্যি।” তবে মৃত্যুর আগে তাঁর উপর কতটা অত্যাচার হয়েছিল, সে বিষয়ে তদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
দুই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ঘটনার পরেই হালিশহর থানার আইসিকে ক্লোজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার তদন্তকারী আধিকারিককেও সাসপেন্ড করা হয়েছে। সাধারণত এই ধরনের ঘটনায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বা এসডিও স্তরে তদন্ত হয়ে থাকে। তবে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে এবার জেলাশাসককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বিষয়ে মুখ্যসচিব সোমবার বিকেলে বিজ্ঞপ্তি জারি করবেন বলেও জানান তিনি।
স্ত্রীর চাকরি, সন্তানদের জন্য ১০ লক্ষ
নিহত বিরজুর স্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। এই পদে প্রথম এক বছর মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয়। এক বছর পর গ্রুপ ডি পদে উন্নীত হওয়ার সুযোগ থাকে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর কথায়, পরীক্ষা ছাড়া সরাসরি সরকারি চাকরি দেওয়া যায় না। তাই নিয়ম মেনে অ্যাটেনডেন্ট পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকে বিরজুর দুই সন্তানের পড়াশোনার জন্য ১০ লক্ষ টাকার চেক দেওয়ার কথা জানান তিনি।
কী ঘটেছিল কাঁচরাপাড়ায়?
পরিবারের দাবি, গত শুক্রবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিরজু কুমারকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরিবারের বক্তব্য, মেডিক্যাল পরীক্ষার সময় তিনি সুস্থ ছিলেন। এরপর গভীর রাতে পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশি অত্যাচারের ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং হেফাজতে কী ঘটেছিল, তা তদন্তের রিপোর্টেই স্পষ্ট হবে।


