Aaj India Desk, কলকাতা: আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের (International Yoga Day) দিন কলকাতা (Kolkata)-য় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সকালে রেড রোডে হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে যোগাভ্যাস করার পর গার্ডেনরিচে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ দেশের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে তিনি ভারতের সামুদ্রিক শক্তি, আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এমন একটি বিশেষ দিনে পশ্চিমবঙ্গে আসতে পেরে তিনি গর্বিত। তাঁর কথায়, দেশের উন্নয়ন ও পুনর্জাগরণে বাংলার অবদান বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। হুগলি নদী শুধু ইতিহাসের সাক্ষী নয়, এই নদীপথের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ বিশ্বের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ আরও মজবুত করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মোদীর মতে, ভবিষ্যতে শক্তিশালী ভারত গড়তে হলে সমুদ্রপথে আরও বেশি আত্মনির্ভর হতে হবে। সেই লক্ষ্যেই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধজাহাজগুলির গুরুত্ব অনেক। তিনি বিশেষভাবে আইএনএস দুনাগিরির প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের নৌযান দেশের নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভারত এখন শুধু নিজের প্রয়োজন মেটানোর জন্য নয়, ভবিষ্যতের কথা ভেবেও প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত ক্ষমতা বাড়াচ্ছে। আগে প্রতিরক্ষার জন্য বিদেশি অস্ত্রের উপর অনেকটাই নির্ভর করতে হতো। কিন্তু এখন দেশীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদনের উপর জোর দেওয়ায় পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। আত্মনির্ভর ভারত গড়ার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন বলে জানান তিনি।
এই অনুষ্ঠানে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয় তিনটি আধুনিক নৌযান— আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস অগ্রয় এবং আইএনএস সংশোধক। কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)-এ তৈরি এই জাহাজগুলি সমুদ্রে নজরদারি, ডুবোজাহাজ-বিরোধী অভিযান এবং সমুদ্র জরিপের কাজে নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। এর আগে শনিবার প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে এসে হুগলির তারকেশ্বরে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’-এর অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পরে লোকভবনে রাত্রিযাপন করেন।
রবিবার ভোরে তিনি কলকাতার রেড রোডে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে যোগাভ্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী। মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, আজ বিশ্বের অসংখ্য দেশ যোগ দিবস পালন করছে এবং ২১ জুন এখন আন্তর্জাতিকভাবে এক বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে।
কলকাতায় প্রথমবার এই কর্মসূচি আয়োজনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগ দিবস পালনের জন্য পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে ভালো জায়গা আর হতে পারত না। কলকাতাবাসীর আন্তরিক অভ্যর্থনা ও নাগরিক দায়িত্ব পালনের ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি। সব কর্মসূচি শেষ করে রবিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ রেসকোর্স থেকে হেলিকপ্টারে কলকাতা বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি দিল্লির উদ্দেশে ফিরে যান।


