Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্যজুড়ে চলছে তিন দিনের জনকল্যাণ শিবির (Jana Kalyan Shibir)। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিতে প্রতিদিনই সেখানে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে শিবিরে আসা কোনও মানুষ যাতে খালি হাতে ফিরে না যান, তা নিশ্চিত করতে জেলাশাসকদের স্পষ্ট নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে মানুষকে পরিষ্কারভাবে বোঝানোর কথাও বলেছেন তিনি। অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojona) নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
কার্শিয়াং সফর শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নবান্নে ফিরে ভার্চুয়াল মাধ্যমে রাজ্যের সব জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত, ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা-সহ একাধিক শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক।
সেই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, জনকল্যাণ শিবিরে যে-ই আসুন না কেন, তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। কোনও প্রকল্পের নাম তালিকায় থাকুক বা না থাকুক, সব ধরনের সরকারি প্রকল্পের আবেদনপত্র শিবিরে রাখতে হবে। বর্তমানে বিধবা ভাতা ও বার্ধক্য ভাতার নতুন আবেদন গ্রহণ বন্ধ থাকলেও, সেই প্রকল্পগুলির আবেদনপত্রও মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি জানিয়েছেন, এই দুটি প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
প্রবীণদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
১৫ জুন থেকে শুরু হওয়া এই জনকল্যাণ শিবির ১৭ জুন পর্যন্ত চলবে। মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসকদের বলেন, আরও বেশি মানুষের কাছে শিবিরের খবর পৌঁছে দিতে প্রচার বাড়াতে হবে। শিবিরে অনেক প্রবীণ মানুষকে রোদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। সেই কারণে নির্দেশ দেন, যাঁদের শিবিরে আসতে অসুবিধা হবে, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে আবেদনপত্র পৌঁছে দেবেন সরকারি কর্মীরা। শুধু তাই নয়, আবেদনপত্র পূরণ করতেও প্রয়োজনীয় সাহায্য করবেন সরকারি কর্মীরাই।
একইসঙ্গে গরমের মধ্যে যাতে শিবিরে আসা মানুষ অসুস্থ না হয়ে পড়েন, তার জন্য পানীয় জল, ছায়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখারও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “জনকল্যাণ শিবির মানুষের সুবিধার জন্য, ভোগান্তির জন্য নয়।” নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দু’দিনে রাজ্যজুড়ে প্রায় ২,০৫০টি জনকল্যাণ শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত প্রায় ২৪ লক্ষ মানুষ সেখানে এসেছেন।
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
এর আগে কার্শিয়াং থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, “অন্নপূর্ণা যোজনায় ১ কোটি ৩ লক্ষ ভেরিফাই হয়ে গিয়েছে।” অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে, আবেদনপত্র জমা দিলেই কি সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকাউন্টে টাকা চলে আসবে? এই বিষয়ে বৈঠকে জেলাশাসকদের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করলেই সঙ্গে সঙ্গে টাকা পাওয়া যাবে না। প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে আবেদনগুলির যাচাই প্রক্রিয়া চলছে। তাই যাচাই শেষ হওয়ার পরই নিয়ম মেনে সুবিধা দেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি নির্দেশ দেন, জনকল্যাণ শিবিরে আসা প্রত্যেক মানুষকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে সহজ ভাষায় বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে, যাতে কোনও বিভ্রান্তি না থাকে।


