Aaj India Desk, কলকাতা : ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) ঘিরে ফের বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ। আর্থিক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পে অনিয়ম এবং কালো টাকা পাচারের অভিযোগ তুলে এবার দিল্লিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, তাঁর হাতে থাকা নথি ও তথ্যপ্রমাণ কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়ে তদন্তের আবেদন জানাতে পারেন তিনি।
ক্যাগ রিপোর্ট ঘিরে নতুন বিতর্ক
ঋতব্রত শিবিরের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ক্যাগ (CAG) রিপোর্টে একাধিক তথ্য উঠে এসেছে। সেই রিপোর্টে অর্থের লেনদেন এবং কালো টাকা পাচার সংক্রান্ত তথ্যসূত্রও রয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) উদ্যোগে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা এলাকায় গত দুই বছর ধরে ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবির পরিচালিত হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এই প্রকল্পের আড়ালে বিপুল আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। তাঁর দাবি, বহু মানুষ যথাযথ চিকিৎসা পাননি, পাশাপাশি প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলেও দাবি জানিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের জেরে অভিষেকের বিরুদ্ধে ভেজাল ওষুধ, ভুল চিকিৎসার জেরে অঙ্গহানির মতো একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে।
‘কেরল লবি’ ও কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের অভিযোগ
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেছেন, ‘সেবাশ্রয়’-এর অর্থের একটি অংশ কেরলের উপনির্বাচনে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রার্থী নির্বাচন থেকে শুরু করে একটি সমুদ্রতীরবর্তী রিসর্টে বৈঠক এবং পরে অর্থ কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে পাঠানোর ঘটনাও ঘটেছে। এর আগে ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক ও প্রাক্তন আইপিএস প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ও তৃণমূলের অর্থ কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে পাচারের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি করেছিলেন।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা এই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সমর্থনে ইতিমধ্যেই একাধিক নথি তাঁদের হাতে এসেছে। চলতি সপ্তাহেই সেই নথির একটি অংশ প্রকাশ্যে আনার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি, বৃহস্পতিবার দিল্লি গিয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে ওই নথি জমা দিয়ে তদন্তের আবেদন জানাতে পারেন ঋতব্রত। তবে এই বিষয়টি নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি।


