Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : রাজ্যসভা, বিধানসভা এবং লোকসভায় একাধিক পদত্যাগের ঘটনায় কার্যত ধ্বসে পড়েছে তৃনমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। এই অবস্থায় তৃণমূল কংগ্রেসকে জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত করার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। দিল্লির ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের পর এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে তৃণমূল বা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত এখনও মেলেনি।
কেনো তৈরি হয়েছে জোটের জল্পনা ?
২০২৬ এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) বড় পরাজয়ের পর এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মুখে তৃনমূল ও কংগ্রেসের জোটের সম্ভাবনা তৈরি হয়। তৃণমূলের ক্ষমতা হারানো, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও বিজেপির চাপ সামলাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বাড়ানো হয়। এর ফলে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মমতা ও অভিষেকের বৈঠকও হয়। সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির পদ গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও দলীয় সূত্রে জানা যায়। অর্থাৎ কংগ্রেসের কন্যা ফের কংগ্রেসই ফিরতে পারেন।
লোকসভার অঙ্ক কী বলছে?
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) যদি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে, তাহলে তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভা সাংসদ মিলিয়ে লোকসভায় কংগ্রেসের আসনসংখ্যা ৯৯ থেকে বেড়ে ১২৭ হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে কোনও গোষ্ঠী যদি নিজেদের আলাদা দল হিসেবে দাবি করতে চায়, তাহলে তাদের দুই তৃতীয়াংশের সমর্থন দরকার হবে। অর্থাৎ প্রায় ৮৫ জন সাংসদের সমর্থন দেখাতে হবে।
কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষে সেটা না হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। সেক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ও অভিষেকের সাথে না থাকতে চাইলে বিদ্রোহী শিবির ইস্তফা দিতে পারে বলেই সূত্রের দাবি। দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় তারা সরাসরি বিজেপিতেও যোগ দিতে পারবে না। এর ফলে দলীয় প্রতীক এবং তহবিলের উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্তৃত্ব বজায় থাকতে পারে।


