Aaj India Desk, কলকাতা : বিধানসভা ভোটের কালি মিটতে না মিটতেই এক মাসের মধ্যে ছাড়খার হয়ে গিয়েছে তৃনমূল কংগ্রেস। বিধানসভায় ইতিমধ্যেই দলের ভাঙন ঘটে যাওয়ার পর লোকসভা ও রাজ্যসভাতেও একই চিত্র উঠে এসেছে। রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়, সুষ্মিতা দেবের পর এবার বৃহস্পতিবার প্রকাশ চিক বরাইকও পদত্যাগ (TMC Resignation) করেন। প্রকাশ চিক বরাইকের ইস্তফায় বর্তমানে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে ১০-এ নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে দলের আরও কয়েকজন রাজ্যসভা সাংসদ ভবিষ্যতে কী অবস্থান নেবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
কে কে ছাড়তে পারেন দল ?
দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক মহলের আলোচনায় কয়েকজন সাংসদের নাম ঘুরে ফিরে আসছে। সেই তালিকায় রয়েছেন সাংসদ সাগরিকা ঘোষের নাম। সাগরিকা ঘোষ, প্রখ্যাত সাংবাদিক ও লেখিকা, ২০২৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে রাজ্যসভা সাংসদ হন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাগরিকা বর্তমানে দলের বিদ্রোহীদের তীব্র সমালোচনাও করেছেন। তবে এই আনুগত্য দেখানো সত্ত্বেও সায়নী ঘোষের বিদ্রোহী শিবিরে যোগদান করার পর থেকে সাগরিকা ঘোষকে নিয়েও শুরু হয়েছে চর্চা।
অন্যদিকে তৃণমূলের মনোনয়নে রাজ্যসভা সাংসদ হয়ে ভারতের প্রথম কুইয়ার সাংসদ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মেনকা গুরুস্বামীও দল ছাড়তে (TMC Resignation) পারেন। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমারকে নিয়েও উঠে এসেছে একই তথ্য।
এছাড়াও দীর্ঘদিনের তৃণমূল নেতা ও ২০১২ থেকে রাজ্যসভা সাংসদ নাদিমুল হকের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা চলছে। উত্তরবঙ্গ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি সামিরুল ইসলামেরও দলের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। ফলে পরবর্তী পর্যায়ে নাদিমুল হক ও সামিরুল ইসলামও বিদ্রোহী শিবিরে যেতে পারেন।
প্রতীক প্রশ্নে অপেক্ষা?
বিদ্রোহী শিবিরের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ অনেকটাই নির্ভর করবে দলীয় প্রতীক ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত পরিস্থিতির উপর। রাজনৈতিক মহলের দাবি, প্রতীক ও সাংগঠনিক স্বীকৃতি নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পরই অনেক সাংসদ নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কেউ বর্তমান অবস্থান বজায় রাখতে পারেন, আবার কেউ পদত্যাগের (TMC Resignation) পথও বেছে নিতে পারেন। ফলে আগামী কয়েকদিনে আরও কোনও সাংসদ পদত্যাগ করেন কি না, অথবা দলীয় সমীকরণে নতুন পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


