Aaj lndia Desk, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের অস্থিরতার জন্য এবার সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)কে দায়ী করলেন তাপস রায় (Tapas Roy)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)-র নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুললেও তাঁর বক্তব্যের মূল নিশানায় ছিলেন অভিষেকই। তাপস রায়ের দাবি, দলের অনেক সাংসদ ও বিধায়ক বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তুষ্ট। সেই কারণেই দলের ভিতরে ক্ষোভ ও ভাঙনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
তাঁর কটাক্ষ, যখন অনেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন, তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব মেনে নেওয়া আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাপস রায়ের মতে, আত্মসম্মান ও রাজনৈতিক মর্যাদাবোধ থাকা নেতাদের পক্ষে এই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলে অভিষেককে ঘিরে যে গুরুত্ব ও মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, তা অনেকের কাছেই অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন আলাদা ব্লক গঠনের জন্য স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া, দেব, কাকলি ঘোষদস্তিদার, পার্থ ভৌমিক-সহ একাধিক সাংসদ। বিষয়টি সামনে আসতেই রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যদি ওই সাংসদরা এনডিএ-কে সমর্থন করতে চান, তাহলে তা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার। দেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেকেরই নিজের অবস্থান বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে।
অনেকের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে পরিচিত দলটি এখন নিজের মধ্যেই একাধিক সমস্যার সম্মুখীন। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব এখনও প্রকাশ্যে এই বিষয় নিয়ে কোনও উদ্বেগ দেখাতে চাইছে না।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অন্দরে যে টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে, তা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে। এখন দেখার, দল এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয় এবং সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখতে পারে কি না।


