Aaj India Desk, কলকাতা: বিধানসভা তো আগেই হাতছাড়া হয়েছিল। এবার লোকসভাতেও ধাক্কা খেতে হল তৃণমূল (TMC) নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-কে। দলের অন্দরের অস্বস্তি জানো কমতেই চাইছে না। এরমধ্যেই দলের একাধিক সাংসদ এনডিএ (NDA)-র দিকে ঝুঁকছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। সম্প্রতি তিনি নাম করে করে অর্থাৎ, ইউসুফ পাঠান, সাজদা আহমেদ, আবু তাহের, খলিলুর রহমান এইকজন সংখ্যালঘু সাংসদের উদ্দেশে বলেন, “যদি তাঁরা সত্যিই NDA-তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে তাঁদের মনে রাখা উচিত এখন তাঁদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব অন্য শিবিরেই।” একইসঙ্গে তিনি পরামর্শ দেন, “যেসব মানুষের ভোটে তাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন এবং যেসব কর্মীরা তাঁদের জয়ের জন্য পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের সামনে গিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত।”
দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভের কথা তুলে ধরে কিছু সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। তবে কল্যাণের প্রশ্ন, “যদি সত্যিই কোনও অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে তা আগে দলের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল কি না, তার প্রমাণ সামনে আনা হোক।” তাঁর দাবি, এতদিন কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও অভিযোগ জানাননি। এছাড়াও তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “দীর্ঘদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকার ফলে অনেকেই সেই রাজনৈতিক গুরুত্ব ও পরিচিতির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাই দল ছাড়ার পরও সেই অবস্থান ধরে রাখতে চাইছেন।”
তারকা সাংসদদের নিয়েও মন্তব্য করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “জনপ্রিয়তা আর ভোটের রাজনীতি এক বিষয় নয়। মানুষের ভালোবাসা থাকলেই রাজনৈতিক সাফল্য নিশ্চিত হয় না। দলের সংগঠন এবং কর্মীদের ভূমিকা ভোটের নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা তথা মন্ত্রী তাপস রায় আবার দলকে আক্রমণ করে বলেন, “রাজ্যের স্বার্থে এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে তৃণমূলের প্রভাব যত দ্রুত কমবে, ততই মঙ্গল হবে বলে তিনি মনে করেন।”


