Aaj India Desk, কলকাতা : ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত শূন্য থেকে এক হয়েছে সিপিআইএম। সেই পদে জয়ী হয়ে বিধায়ক হয়েছেন ডোমকলের বাম নেতা মুস্তাফিজুর রহমান রানা (Mustafizur Rahman)। রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ও তৃনমূলের ভাঙনের আবহে এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী ব্লককে কটাক্ষ করলেন তিনি। একই সাথে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাজ নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন।
ঋতব্রত প্রসঙ্গে বিস্ফোরণ রানা
সোমবার মুস্তাফিজুর রহমান (Mustafizur Rahman) বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী যেমন তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা, তেমনই ঋতব্রত আমাদের প্রাক্তন নেতা। ওকে আমরা দল থেকে বহিষ্কার করেছি, তারপর তৃণমূল ওকে কোলে তুলে নিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আসলে বাম ও কংগ্রেসকে লঘু করতে তৃণমূলের মতো দলকে তৈরি করেছিল আরএসএস। এখন আর ওদের প্রয়োজন নেই আরএসএস-এর। তাই একটা ডামি বিরোধী তৈরি করেছে। ঋতব্রতকে নিয়ে আলোচনারই প্রয়োজন নেই।”
মুস্তাফিজুর রহমানের (Mustafizur Rahman) বক্তব্যে ‘ডামি বিরোধী’ শব্দটি বিশেষভাবে রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে। মূলত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দলটিকে বিরোধী শিবিরের অংশ বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে এটিকে বর্তমান শাসকপক্ষের সুবিধাবাদী বি টিম হিসেবেই দেখছেন বলে ইঙ্গিত করেছেন বাম নেতা। তাঁর মতে, এভাবে ভাঙন ঘটিয়ে একদিকে যেমন তৃনমূল দলটিকে দুর্বল করে দিতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি, তেমনই অন্যদিকে এদেরকে বিরোধী হিসেবে দেখিয়ে ভোট কাটাকাটির সুবিধা ওঠাতে পারে শাসকদল।
উল্লেখ্য, একসময় সিপিএমের যুব মুখ হিসেবে পরিচিত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পরে দল থেকে বহিষ্কৃত হন। পরবর্তীতে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। তবে সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পরেই দলীয় অসন্তোষের জেরে প্রায় ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে তিনি বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পেয়েছেন। সেই কারণেই তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। এবার তাঁকে সরাসরি কটাক্ষ করলেন সিপিএমের বিধায়ক।
শুভেন্দুর কাজ নিয়ে উচ্ছ্বসিত ?
এর পাশাপাশি রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদলের পর শুভেন্দু সরকারের কাজ নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। একাধিক কাজের প্রশংসা করলেও হকার উচ্ছেদ নিয়ে সরব হন তিনি। তিনি বলেন, “হকার উচ্ছেদের ক্ষেত্রে যেভাবে হুটপাট করে বুলডোজার পাঠিয়ে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, সেটা ঠিক নয়। এই কাজ নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে করা উচিত। শুভেন্দু অধিকারীও মাটি থেকেই উঠে এসেছেন, নিশ্চয়ই ওনাকে এসব শেখাতে হবে না।”
তবে একদিকে বিরোধী দলনেতার পদে ঋতব্রতর উত্থান, অন্যদিকে প্রাক্তন দল সিপিএমের তরফে সরাসরি আক্রমণ, সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ ও বিতর্কের ইঙ্গিত মিলছে। আগামী দিনে এই মন্তব্যের জেরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


