Aaj India Desk, কলকাতা : ৪ই মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর ৯ তারিখ শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। প্রায় এক মাস হতে না হতেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। বাংলাকে পরিবর্তনের পথে নিয়ে যেতে সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে স্বাস্থ্য, চাকরি, প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন রাজ্যের নব্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১১ মে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর থেকে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিসরেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
এক নজরে এক মাসের কর্মতালিকা :
- বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত হস্তান্তর।
- আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, উজ্জ্বলা যোজনাসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় কল্যাণমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার।
- সরকারি চাকরির আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪০ থেকে ৪৫ বছরে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মরত সরকারি কর্মীদের সার্ভিস এক্সটেনশনের বিষয়েও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
- বিভিন্ন দপ্তরে শূন্যপদের তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে।
- ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া শুরু করা হয়েছে।
- মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস যাত্রার সুবিধাও চালু করা হয়েছে।
- রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখতে স্বচ্ছ অ্যাপ চালু করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
- প্রথম মাসেই বিভিন্ন বোর্ড, কর্পোরেশন, পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং এবং অন্যান্য নন-স্ট্যাটুটরি সংস্থায় নমিনেটেড চেয়ারম্যান, ডিরেক্টর ও সদস্যদের পদ বাতিল করা হয়েছে।
- পুনর্নিয়োগ এবং অবসরের পর মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যবস্থাও বন্ধ করা হয়েছে।
- ১৪ বছরের নিচে থাকা গরু ও গবাদি পশু বলি দেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
- রাজ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- দিল্লি পুলিশের মতো সমমানের অস্ত্র রাজ্য পুলিশের জন্য আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- আইএএস ও আইপিএস অফিসারদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
- ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ সংক্রান্ত একাধিক মামলা পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
- কাটমানি ও সিন্ডিকেট সংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
- রাজ্যজুড়ে সারভিক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধে বৃহৎ ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
- চা বাগান শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্রীয় প্যাকেজ বাস্তবায়ন এবং সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে গরু পাচার রোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
- চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ সম্পন্ন হতে চলেছে।
- রাজ্য জুড়ে ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে অবৈধ নির্মাণ ও হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকারের প্রথম মাসের পদক্ষেপগুলির মূল ফোকাস ছিল প্রশাসনিক পুনর্গঠন, কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নতুন সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচি চালু করা। এর মধ্যে একাধিক কাজের জন্য যেমন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) প্রশংসা পেয়েছেন, তেমনই বেশ কয়েকটি কাজের জন্য বিপুল পরিমাণ সমালোচিতও হয়েছেন। এবার আগামী মাসগুলিতে এই সিদ্ধান্তগুলির প্রভাব কী হয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্যের।


