Aaj India Desk, হুগলি : হুগলির চুঁচুড়ার প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক অসিত মজুমদারকে (Asit Majumdar) ফের জেল হেফাজতে পাঠাল আদালত। শুক্রবার তাঁকে চুঁচুড়া আদালতে তোলা হয়। পুলিশের কাজে বাধা ও তোলাবাজির সাথে এবার তাঁর বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের একটি পুরনো শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার মামলাও যুক্ত করা হয়। ফলে আদালত তাঁকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১৯ জুন।
একের পর এক মামলা
গত ৩০ মে সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার প্রতিবাদে চুঁচুড়ায় তৃণমূলের বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন অসিত মজুমদার (Asit Majumdar)। অভিযোগ, ওই কর্মসূচির সময় পুলিশের কাজে বাধা, ধাক্কাধাক্কি এবং রাস্তা অবরোধের ঘটনা ঘটে। সেই মামলায় তাঁকে সহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগও যুক্ত করা হয়। ফলে ওই মামলায় তাঁর জামিন মঞ্জুর হয়নি।
আরও ১৪ দিনের জেল হেফাজত
শুক্রবার আদালতে পেশ করার সময় তদন্তকারী সংস্থা ফের ২০২৩ সালের একটি মামলার উল্লেখ করে। অভিযোগকারী এক যুবতী দাবি করেছিলেন, চুঁচুড়া পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় অসিত মজুমদার তাঁর সঙ্গে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতে বিষয়টি উত্থাপন করা হলে বিচারক তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। যদিও অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও আদালতে বিচারাধীন।
আদালত থেকে জেলে নিয়ে যাওয়ার সময় বিমর্ষ অসিত মজুমদার (Asit Majumdar) বলেন, “কিছু বলার ভাষা নেই। ভগবান আছে, ঠিকই বিচার হবে। বিচার ব্যবস্থা আছে, সব দেখবে।”
উল্লেখ্য, অসিত মজুমদার দীর্ঘদিন ধরে হুগলি জেলার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। তিনি চুঁচুড়া কেন্দ্রের তিনবারের বিধায়ক ছিলেন এবং জেলা তৃণমূলের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও সহিংসতার অভিযোগ উঠেছিল। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একাধিক তৃনমূল নেতার গ্রেপ্তারি ঘিরে তিনি সরব হয়েছিলেন। তাঁর মতে, অভিষেকের সমর্থন করার ফলেই বর্তমানে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।


