Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার সকাল ১০ টা থেকে দিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করলো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দিল্লিতে পৌঁছনোর পরই কর্মসূচিকে ঘিরে তৎপরতা বাড়ছে। দিল্লি পুলিশ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিজিৎ।
শনিবার সকালে দিল্লিতে পৌঁছে অভিজিৎ দীপকে সামাজিক মাধ্যমে জানান, তিনি জন্তর মন্তরে সকলের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় রয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, “ভালোবাসা ও শান্তির মাধ্যমে এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।” এর আগেই তিনি টুইটারে ঘোষণা করেছিলেন, পরীক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তিনি ৬ জুন ভারতে ফিরে এসে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন। সেই ঘোষণাকে সত্যি প্রমাণিত করেই আজ আন্দোলনে পথে নেমেছে ভারতের যুব সমাজ।
দিল্লি পুলিশের অনুমতি পাওয়ার পর থেকেই সংগঠনের সমর্থকরা জন্তর মন্তরে জড়ো হতে শুরু করেছেন। প্রথমে সংসদ মার্গ থানায় জমায়েতের পরিকল্পনা থাকলেও পরে সরাসরি জন্তর মন্তরে সমাবেশের অনুমতি মেলে।
কী নিয়ে এই প্রতিবাদ?
ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) দাবি, NEET-UG পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, CBSE দ্বাদশ শ্রেণির অন স্ক্রিন মার্কিং (OSM) ও পুনর্মূল্যায়ন সংক্রান্ত বিতর্কে বহু শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেই কারণেই শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহি এবং পদত্যাগ দাবি করে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লি জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রাজধানীর প্রবেশপথ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) সূচনা হয়েছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে সংগঠনটি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর প্রভাব এবং গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপক হারে বাড়ছে। এমনকি বিশিষ্ট শিক্ষা সংস্কারক ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকও জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে তিনিও এই আন্দোলনে যোগ দিতে পারেন। ফলে বর্তমানে জন্তর মন্তরের কর্মসূচির দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল, শিক্ষার্থী সংগঠন এবং প্রশাসনের।


