Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় একদিনের জন্য সাসপেন্ড হওয়ার পর স্পিকার ও সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী কণ্ঠ রোধের অভিযোগ তুললেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁর দাবি, হোম দপ্তরের বাজেট আলোচনায় তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে বক্তব্য রাখতে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে লোকসভায় সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেও দাঁড়ান তিনি।
বুধবার বিধানসভায় বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় উত্তেজনা ছড়ায়। বিদ্রোহী শিবিরের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান বক্তব্য শুরু করলে কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) নিজের আসন ছেড়ে সামনে চলে আসেন এবং বক্তব্য রাখার সুযোগ দাবি করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় স্পিকারের নির্দেশে মার্শাল তাঁকে কক্ষের বাইরে নিয়ে যান। পরে তাঁকে একদিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়।
সাসপেনশনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, তিনি একজন নির্বাচিত বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, প্রকৃত বিরোধীদের কণ্ঠস্বর রোধ করতে বিধানসভার ভেতরে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে আটকানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, হোম বাজেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাতেও তাঁর নাম বক্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্রোহী বিধায়ক ও বিজেপিকে লক্ষ্য করে একাধিক রাজনৈতিক মন্তব্যও করেন।
একইসাথে লোকসভায় সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষেও সরব হন কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক কারণেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দল ছাড়বেন না এবং তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে সমর্থনযোগ্য মনে করেন না।
কুণাল ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং ক্যাগ রিপোর্ট পেশের বিষয়েও প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁর অভিযোগ, শাসকপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও অনেক ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। পাশাপাশি কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের সভায় মানুষের উপস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন কুনাল। তিনি দাবি করেন, তাঁদের ২১ শে জুলাইয়ের সভায় বিপুল জনসমাগম হয়েছিল। মানুষের এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর বিপুল আস্থা দেখেই বিজেপি ও ঋতব্রতপন্থী তৃনমূল রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
একই দিনে বিধানসভায় কুণাল ঘোষ এবং লোকসভায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাসপেনশন ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই সাসপেনশন কি বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন না শৃঙ্খলা বজায় রাখার পদক্ষেপ, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।


