Aaj India Desk, কলকাতা: গত দু’দিন ধরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে কলকাতা পুরনিগমের (KMC) মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)-কে ঘিরে। প্রশ্ন উঠছে, তিনি কি সত্যিই মেয়র পদ থেকে ইস্তফা (Resignation) দিতে চলেছেন? তবে এখনও পর্যন্ত সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।
কালীঘাটের বৈঠকের পর কুণাল ঘোষ দাবি করেছিলেন, ফিরহাদ হাকিম নিজেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না বলেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। এমনকি প্রশাসনিক বৈঠকেও তিনি বিষয়টি তুলেছিলেন বলে দাবি করেন কুণাল।
কিন্তু সেই মন্তব্যের পর দু’দিন কেটে গেলেও বাস্তবে তেমন কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বরং বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ফিরহাদ হাকিম সরাসরি কোনও উত্তর দেননি। তিনি বলেন, এই বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না।
এদিকে ঘটনাপ্রবাহও অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। শুক্রবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে দেখা যায় ফিরহাদ হাকিমকে। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি নবান্নের এক প্রশাসনিক বৈঠকেও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে পাশে বসিয়ে আলোচনা করেছেন এবং ‘মেয়র সাহেব’ বলেই সম্বোধন করেছেন।
বৃহস্পতিবারও পুর কমিশনারের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করতে দেখা যায় ফিরহাদকে। আর শুক্রবার স্মিতা পাণ্ডে তাঁর নির্ধারিত কর্মসূচির বাইরে গিয়ে ফিরহাদের বাড়ির সামনে গাছ লাগানোর অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তাই রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, যদি সত্যিই মেয়র পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তিনি কি এত সক্রিয়ভাবে পুরসভার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতেন? বর্তমান পরিস্থিতি দেখে অনেকেরই মনে হচ্ছে, ইস্তফার জল্পনা যতটা জোরালো, বাস্তব চিত্র হয়তো ততটা স্পষ্ট নয়।


