Aaj India Desk, কলকাতা: ২১ জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ (Sahid Divas) সভার মঞ্চে বক্তৃতা থামানো এবং পরে মঞ্চ ছেড়ে চলে যাওয়াকে ঘিরে মঙ্গলবার বিকেল থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়। কেউ দাবি করেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) ক্ষুব্ধ হয়ে অনুষ্ঠান ছেড়েছেন। আবার কারও মতে, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবে এই সব জল্পনার জবাব দিয়েছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ (TMC MP) নিজেই।
মঙ্গলবার রাতে একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, পুরো ঘটনাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, মঞ্চের পরিস্থিতি এবং বক্তৃতার ধারাবাহিকতার কারণেই তাঁকে একাধিকবার বক্তব্য থামাতে হয়েছিল। এর সঙ্গে অন্য কোনও বিতর্কের সম্পর্ক নেই।
তিনি জানান, ২১ জুলাইয়ের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে আসার আগে তিনি প্রায় ২২ মিনিট বক্তব্য রাখেন। সেই সময় তিনি বিরোধীদের সমালোচনা করেন এবং দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বিভিন্ন বার্তা দেন। পরে মমতা ও অভিষেক মঞ্চে পৌঁছতেই তাঁদের স্বাগত জানাতে তিনি নিজের বক্তব্য থামিয়ে দেন।
ফেসবুক পোস্টে কল্যাণ আরও লেখেন, কুণাল ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী বক্তাদের তালিকায় সৌগত রায় ছাড়া অন্য কোনও সাংসদের নাম ছিল না। কিন্তু তালিকায় থাকা প্রিয়ঙ্কা অধিকারী ও উপাসনা দীর্ঘক্ষণ মঞ্চে না আসায় তাঁকেই বক্তৃতা শুরু করতে বলা হয়। পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে পৌঁছানোর পর তিনি কয়েক মিনিট বক্তব্য বন্ধ রাখেন। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে উঠলে তাঁকেও স্বাগত জানান এবং তাঁর অনুমতি নিয়েই আবার বক্তৃতা শুরু করেন। তাই এই ঘটনাকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলেই দাবি করেন তিনি।
নিজের পোস্টে নাম না করেই তথাকথিত “কালীঘাট সূত্র”-এর সমালোচনাও করেন কল্যাণ। তাঁর অভিযোগ, গত দু’মাসে অনেক নেতা জেলার কর্মীদের কাছে যাননি। অথচ তিনি নিজে বিভিন্ন জেলায় গিয়ে দলীয় কর্মীদের পাশে থেকেছেন। তাঁর দাবি, “কালীঘাট সূত্র”-এর নামে যে ধরনের খবর প্রকাশ করা হচ্ছে, তা দলেরই ক্ষতি করছে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার মঞ্চে বক্তব্য শেষ করার পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কিছুটা অস্বস্তিতে দেখা যায়। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সংক্ষিপ্ত কথাবার্তাও হয়। পরে কুণাল ঘোষ সেখানে এলেও কিছুক্ষণ পর সরে যান। এরপর কল্যাণ নেত্রীকে কিছু বলে মঞ্চ ছেড়ে চলে যান। তিনি আর সভায় ফেরেননি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যও শোনেননি। এরপর থেকেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়।
এদিকে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ফেসবুক পোস্ট সামনে আসার পর নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেত্রী শ্রেয়া পাণ্ডে পোস্টটি উল্লেখ করে দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দোলা সেনকে ইঙ্গিত করে মন্তব্য করেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।


