Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা: গত ১৩ ডিসেম্বর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি (Lionel Messi)-কে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ আয়োজক সংস্থার কর্ণধার শতদ্রু দত্ত (Satadru Dutta)-কে গ্রেপ্তার করেছিল। তদন্ত চলাকালীন জেরায় শতদ্রু দাবি করেন, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas)-এর আমন্ত্রণে প্রায় ৩০০ জন বিশেষ অতিথি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অধিকাংশই মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠ একটি ক্লাবের সদস্য বলে তিনি অভিযোগ করেন। ঘটনার পর তৎকালীন সরকার একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছিল।
পরে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর শতদ্রু দত্ত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং সংবাদমাধ্যমের সামনেও মুখ খোলেন। তাঁর অভিযোগ, যুবভারতীর সেই দিনের বিশৃঙ্খলার জন্য মূলত দায়ী ছিলেন অরূপ বিশ্বাস। পাশাপাশি পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর শতদ্রু সাংবাদিকদের জানান, মেসির প্রদর্শনী ম্যাচ আয়োজনের আগে অরূপ বিশ্বাস তাঁর কাছে ২২ হাজার কমপ্লিমেন্টারি টিকিট চেয়েছিলেন। তাঁর দাবি, সেই টিকিট না দিলে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতির চাপে শেষ পর্যন্ত তিনি চাহিদা অনুযায়ী সব টিকিট তুলে দেন বলেও অভিযোগ করেন। শতদ্রুর আরও দাবি, ওই টিকিটের বড় অংশ পরে কালোবাজারিতে বিক্রি করা হয় এবং এতে আর্থিক অনিয়মও হয়েছিল।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে শতদ্রু দত্ত অরূপ বিশ্বাস-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করেন। সেই অভিযোগের পর বিধাননগর দক্ষিণ থানা তোলাবাজি, প্রতারণা, আর্থিক তছরুপ, ভয় দেখানো এবং ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। সূত্রের খবর, গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় অরূপ বিশ্বাস সোমবার বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন।
শতদ্রুর অভিযোগ, মেসির মতো আন্তর্জাতিক তারকার অনুষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে সেদিন পুলিশের যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ছিল না। ফলে বহু মানুষ অনুমতি ছাড়াই মাঠের ভিতরে ঢুকে পড়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর অনুগামীদের ভিড়ের কারণে অনেক সাধারণ দর্শক ঠিকমতো মেসিকে দেখতে পারেননি। এমনকি অরূপ বিশ্বাস সারাক্ষণ মেসির খুব কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর জেরে ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ মাঠে ভাঙচুর চালায় বলে শতদ্রুর দাবি।
ঘটনার পর থেকেই অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। যুবভারতীর সেই বিশৃঙ্খলার জন্য জনমানসে তাঁকেই প্রধান দায়ী হিসেবে তুলে ধরা হয়। রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় তিনি নাকি দলনেত্রীর কাছে নিজের হাতে লেখা চিঠিতে মন্ত্রিত্ব ছাড়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বদলায়নি। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সেই ঘটনাকে ঘিরে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয় এবং বর্তমানে সেই মামলার তদন্ত চলছে।


