30 C
Kolkata
Monday, June 1, 2026
spot_img

মাটি বাঁচাতে মাঠে নামল কেন্দ্র, দেশ জুড়ে চালু ‘খেত বাঁচাও’ কর্মসূচি !

Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : কয়েক দশক ধরে বেশি ফলনের আশায় ভারতের জমিতে বাড়ছে রাসায়নিক সারের ব্যবহার। কিন্তু তার ভয়ংকর প্রভাব পড়ছে মাটির স্বাস্থ্যে। কমছে উর্বরতা, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। এই উদ্বেগের মধ্যেই কৃষকদের কাছে নতুন বার্তা নিয়ে মাঠে নামল কেন্দ্র। সোমবার থেকেই দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে এক মাসব্যাপী ‘ক্ষেত বাঁচাও অভিযান’ (Khet Bachao Abhiyan)। ভারতের কৃষি জমির উর্বরতা বজায় রাখতে এবং কম রাসায়নিক সার ব্যবহারের উপর জোর দিতেই এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কেন্দ্র।

কেন শুরু হল এই অভিযান?

কেন্দ্রের দাবি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইউরিয়া ও ডিএপি-সহ রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার মাটির উর্বরতা ও দীর্ঘমেয়াদি কৃষি উৎপাদনের উপর প্রভাব ফেলছে। সেই প্রেক্ষিতে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবং সঠিক মাত্রায় সার ব্যবহারে উৎসাহ দিতেই এই ‘ক্ষেত বাঁচাও অভিযান’ এর (Khet Bachao Abhiyan) উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযানের মূল বার্তা “Less fertiliser, right fertiliser, right advice” বা কম সার, সঠিক সার এবং সঠিক পরামর্শ।

কী কী বিষয়ে জোর?

এই ‘ক্ষেত বাঁচাও অভিযান’ (Khet Bachao Abhiyan) কর্মসূচিতে কৃষকদের মাটি পরীক্ষার ভিত্তিতে সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হবে। সয়েল হেলথ কার্ড ব্যবহারে উৎসাহ বাড়ানোর পাশাপাশি ন্যানো-ইউরিয়া, জৈব সার, সবুজ সার এবং অন্যান্য পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতির প্রচার করা হবে। এছাড়া আবহাওয়াভিত্তিক কৃষি পরামর্শ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তথ্যও কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ হাজারেরও বেশি বিজ্ঞানী ও কৃষি বিশেষজ্ঞ এই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। তারা বিভিন্ন গ্রাম, পঞ্চায়েত এবং কৃষিজমিতে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন। দেশজুড়ে ১,৬০০-র বেশি মাঠপর্যায়ের দল কাজ করবে। এর মধ্যে ৫০০টি বিশেষ দল এমন ১০০টি জেলায় নজর দেবে যেখানে রাসায়নিক সারের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে বেশি।

পশ্চিমবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব ?

এই কর্মসূচিতে পশ্চিমবঙ্গকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বাংলার বিভিন্ন জেলায় পঞ্চায়েত, কৃষি দপ্তর, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (KVK) এবং ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (ICAR)-এর সহযোগিতায় এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে। ধান, পাট এবং সবজি চাষপ্রধান এলাকাগুলিতে সুষম সার ব্যবহারের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।কৃষকদের জন্য সচেতনতা শিবির, প্রদর্শনী, মাটি পরীক্ষা এবং বিজ্ঞানী-কৃষক বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

এই অভিযানের মাধ্যমে PM-KISAN, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC), ডাল ও তেলবীজ মিশন এবং কটন মিশনের মতো বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি বাংলার গ্রামাঞ্চলে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তার কারণে সার উৎপাদনের কাঁচামাল ও জ্বালানির খরচ বেড়েছে। ফলে সারের অপচয় কমিয়ে সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন অর্থনৈতিক ও কৃষি উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই আবহেই কেন্দ্রের এই কর্মসূচি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন