31.3 C
Kolkata
Friday, July 17, 2026
spot_img

এক মাসের জন্য আইনি সুরক্ষা, সই জাল মামলায় স্বস্তিতে অভিষেক

Aaj India Desk, কলকাতা: বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বড়সড় আইনি স্বস্তি পেলেন। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দ তাঁর বিরুদ্ধে এক মাসের জন্য কোনও কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে আপাতত এই মামলায় গ্রেফতারি বা অন্য কোনও কড়া পদক্ষেপের আশঙ্কা থেকে কিছুটা স্বস্তিতে থাকছেন তৃণমূল নেতা।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর বাতিলের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। শুক্রবার সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারকে নোটিস পাঠিয়েছে আদালত। বিচারপতি কৌশিক চন্দ জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে মামলার পরবর্তী শুনানি হবে এবং তার আগে এই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।

ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে ঘিরে। তৃণমূলের তরফে স্পিকারের কাছে একটি চিঠি জমা পড়ে, যেখানে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার কথা উল্লেখ ছিল। পরে অভিযোগ ওঠে, ওই চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। যেহেতু চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সইও ছিল, তাই তাঁর বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং পরবর্তীতে পুলিশ এফআইআর নথিভুক্ত করে।

পরে মামলার তদন্তভার সিআইডির হাতে যায়। তদন্ত চলাকালীন একাধিকবার অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তাঁকে নোটিসও পাঠানো হয়েছিল। সেই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে আগেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি এবং অন্তর্বর্তী সুরক্ষা পেয়েছিলেন। এবার তিনি সরাসরি এফআইআর বাতিলের আবেদন করেছেন।

এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তৃণমূলের দুই জয়ী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। তাঁদের অভিযোগ, স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে তাঁদের স্বাক্ষর নকল করা হয়েছিল। বিষয়টি তাঁরা বিধানসভার স্পিকারের নজরে আনেন। এরপর বিধানসভার তরফে থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন একটি চিঠি জমা দেওয়া হলে স্পিকার রথীন্দ্র বসু তাঁকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

তবে সেই সিদ্ধান্তও এখনও আদালতের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে পৃথক মামলা করেছেন। বিচারপতি শম্পা সরকারের বেঞ্চ ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে। ফলে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক আইনি লড়াই সমান্তরালভাবে চলছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন