Aaj India Desk, কলকাতা : সিঙ্গুরে আবারও টাটা গোষ্ঠীকে ফিরিয়ে আনার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। শনিবার সকালেই তিনি জানান, দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের কাছে পশ্চিমবঙ্গ যে শিল্প ও বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত সেই বার্তা জানাতে হবে। সেই লক্ষ্যেই সিঙ্গুরে ন্যানোর ছায়া ত্যাগ করে এবার ফের নতুন করে টাটাকে আমন্ত্রণ জানালেন শমীক ভট্টাচার্য।
‘নেতিবাচক বার্তা গিয়েছিল’
শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya) মতে, প্রায় দুই দশক আগে সিঙ্গুর থেকে ন্যানো প্রকল্প সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় রাজ্য সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তৃনমূলের কাটমানি, সিন্ডিকেট রাজ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গকে আবার শিল্প বিনিয়োগের মানচিত্রে শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে আস্থা ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি।
জমি নীতি বদলের ইঙ্গিত
শিল্পায়নের জন্য জমি নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। তিনি বলেন, স্পষ্ট জমি নীতি ছাড়া বড় শিল্পায়ন সম্ভব নয়। এই প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “শিল্পপতিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে জমি সংগ্রহ করা বাস্তবসম্মত নয়।” যদিও সম্ভাব্য নতুন জমি নীতির বিস্তারিত প্রকাশ করতে চাননি শমীক। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সরকার কাজ করছে এবং আগামী দিনে তার ফল দেখা যাবে।
উল্লেখ্য, হুগলির সিঙ্গুর ২০০৬ সালে টাটা মোটরসের ন্যানো কারখানা প্রকল্পের জন্য দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার প্রায় ৯৯৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে প্রকল্পের জন্য। কিন্তু জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে সেই সময় মমতার নেতৃত্বে কৃষক আন্দোলন, রাজনৈতিক প্রতিবাদ এবং দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০০৮ সালে টাটা মোটরস সিঙ্গুর ছেড়ে গুজরাটের সানন্দে প্রকল্প স্থানান্তর করে। তবে সেই সময় বিজেপি সরাসরি সিঙ্গুরে টাটার শিল্পের বিরোধিতা করেছিল। সময়ের নিয়মে আজ সেই বিজেপির মুখেই চলছে উল্টো বুলি!
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সেই পরিত্যক্ত সিঙ্গুরকে আবার শিল্পায়নের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে নতুন সরকার। একই সঙ্গে রাজ্যে বড় বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প নীতি সংস্কার এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে রাজ্যের। তৃনমূলের ব্যর্থতার পর বিজেপি সরকারই যে বাংলার হাল ফেরাবে সেই ধারণা দিতেই শমীক এই মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে টাটা গোষ্ঠী সিঙ্গুরে ফেরার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।


