Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: এসআইআর (SIR) মামলায় নির্বাচন কমিশনের (ECI) জন্য বড় স্বস্তির খবর দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বিরোধীদের একাধিক আপত্তি খারিজ করে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দেশজুড়ে SIR প্রক্রিয়া চালাতে পারবে কমিশন। এছাড়াও আদালত আরও বলেছে, ভোটার তালিকা (Voter List) আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছ করতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ চারটি মূল বিষয় খতিয়ে দেখে।
প্রথমত, নির্বাচন কমিশনের SIR করার আইনগত ক্ষমতা আছে কি না। আদালত জানায়, এই দায়িত্ব কমিশনেরই।
দ্বিতীয়ত, কমিশন সঠিক উদ্দেশ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে কি না এবং তাদের পদক্ষেপ আইন মেনে হয়েছে কি না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কমিশন ভাল উদ্দেশ্য নিয়েই কাজ করেছে এবং তাদের পদক্ষেপকে কোনওভাবেই বেআইনি বলা যায় না।
তৃতীয় প্রশ্ন ছিল, SIR কি জন আইন অর্থাৎ Representation of the People Act বা সংশ্লিষ্ট নিয়মের বিরুদ্ধে যাচ্ছে? এই ক্ষেত্রেও আদালত কমিশনের পক্ষেই মত দেয়।
চতুর্থত, ভোটার যাচাইয়ের জন্য তথ্য বা নথি চাওয়ার ক্ষমতা কমিশনের আছে কি না, তা নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান নেয় সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানায়, নির্বাচন কমিশনের সেই ক্ষমতা রয়েছে।
রায়ে আদালত আরও বলেছে, সাধারণ ভোটার তালিকা সংশোধনের তুলনায় SIR আলাদা হতে পারে, কিন্তু তাই বলে সেটিকে আইনবহির্ভূত বা ‘আল্ট্রা ভাইরাস’ বলা যাবে না। অর্থাৎ কমিশন তাদের ক্ষমতার বাইরে গিয়ে কোনও কাজ করেনি। আদালতের মতে, সঠিক ও নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির জন্য SIR একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে এই প্রক্রিয়া সাংবিধানিক ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করে বলেও মন্তব্য করেছে শীর্ষ আদালত।
বাংলা ও বিহারে SIR-এর জন্য কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গেও আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই ধরনের পুনর্বিবেচনা করার অধিকার নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। নথি যাচাই প্রসঙ্গে আদালত জানায়, কমিশনের নির্ধারিত ১১টি নথি এবং পরে আধার কার্ড যুক্ত করার সিদ্ধান্তকে একতরফা বলা যাবে না। যাচাই প্রক্রিয়াও অবাস্তব বা অস্পষ্ট ছিল না বলেই মত শীর্ষ আদালতের।
তবে আদালত এটাও স্পষ্ট করেছে, যদি কোনও ব্যক্তি জমা দেওয়া নথির মাধ্যমে নিজের পরিচয় বা ভোটার তালিকায় থাকার যোগ্যতা প্রমাণ করতে না পারেন, তাহলে কমিশন তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তিনি ভারতের নাগরিক নন। এটি শুধুমাত্র ভোটাধিকার সংক্রান্ত বিষয়। পাশাপাশি নাম বাদ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগও দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।


