Aaj India desk, কলকাতা: স্কুলে গিয়ে শরীর খারাপ লাগছিল ছোট্ট ছেলে আয়ুষের। ক্লাস টিচারকে বলতে তিনি বলেছিলেন ‘মাথা নিচু করে বেঞ্চে বসে থাকো।’ অভিযোগ যেখানে বসানো হয়েছিলো সেখানে কোনো ফ্যান ছিল না। এই অবস্থায় আরও শরীর খারাপ করে তার। শেষ পর্যন্ত যখন ছুটি হল আর শরীর ঠিক রাখতে পারেনি ৮ বছরের আয়ুষ। সিঁড়ি দিয়ে পরে মাথায় আঘাত লাগে তার। আর সেই আঘাত নিয়ে ৭ দিন লড়াই করে এসএসকেএম হাসপাতালে মৃত্যু হয় বাঁশদ্রোণী মহাঋষি বিদ্যামন্দিরের (maharishi vidya mandir) ছাত্র আয়ুষ নাথের। এই ঘটনায় স্কুলের সামনে আজ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন অভিভাবকেরা।
অভিভাবকদের কি বক্তব্য?
অভিভাবকদের বক্তব্য বাঁশদ্রোণী মহাঋষি বিদ্যামন্দিরে (maharishi vidya mandir) ছাত্র ছাত্রীদের উপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন চালানো হয়। কোনো ছাত্র পড়াশোনায় দুর্বল হলে তাকে মানসিক নির্যাতন করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই তাকে বিশেষ ভাবে সক্ষম বা অটিস্টিক শিশু বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। এক অভিভাবক বলেন, “এখানে বাচ্চাদের ঠিক করে জল খেতে দেওয়া হয় না, শৌচাগারে যেতেও বাধা দেওয়া হয়।” অপর এক অভিভাবক বলেন, ” আমার ছেলে এখানে ভয়ানক অত্যাচারের শিকার হয়েছিল। ইউকেজি তে পড়াকালীন ওকে সিঁড়ি দিয়ে কয়েক ধাপ গেলেও দেন একজন শিক্ষিকা। ওর অপরাধ ছিল o ক্লাসে অমনোযোগী ছিল। আমাকে বলা হয় আপনার পাগল ছেলেকে নিয়ে যান। এখন ও অনেক নামী স্কুলে ক্লাস ৭ এ পড়ে। এই ভাবে বাচ্চাদের উপর অত্যাচার করে এই স্কুলটা। এদের শাস্তি পাওয়া উচিত।”
স্কুলের বক্তব্য কি?
বাঁশদ্রোণী মহাঋষি বিদ্যামন্দিরের (maharishi vidya mandir) প্রধান শিক্ষিকা সুস্মিতা চক্রবর্তী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর কথায়, ” বাচ্চাটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা করে ওর বাড়ির লোককে খবর দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ সব মিথ্যে।” কিন্তু অসুস্থ আয়ুষকে একা কেন ভারী ব্যাগ নিয়ে নামতে হলো বা প্রথম পিরিয়ডেই কেন তাকে ছুটি দেওয়া হলো না তার কোনো সদুত্তর দেননি তিনি।


