Aaj India Desk, কলকাতা: পালাবদলের পর বাংলার রাজনীতিতে দেখা গেল এক অন্য ছবি। মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির হলেন বিরোধী দলের একাধিক জনপ্রতিনিধি। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বারাসতের তৃণমূল (TMC) সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakali Ghosh Dastidar)-ও। বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই তিনি সেখানে পৌঁছে যান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কাকলি বলেন, তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলেই তিনি এসেছেন। তাঁর কথায়, “প্রশাসন কারও একার নয় এবং এটা কোন দলীয় সভাও নয়। তাই এই বৈঠককে রাজনৈতিকভাবে দেখা ঠিক নয়।”
শুধু কাকলি নন, এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের আরও তিন বিধায়কও। দেগঙ্গার বিধায়ক আনিসুর রহমান, হাড়োয়ার বিধায়ক আব্দুল মতিন এবং স্বরূপনগরের বিধায়ক বীনা মণ্ডলকে দেখা যায় সভায়। রাজনৈতিক মহলে এই উপস্থিতি যথেষ্ট চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। স্বরূপনগরের বিধায়ক বীনা মণ্ডল আগে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতির দায়িত্বও সামলেছেন। অন্যদিকে, হাড়োয়ার বিধায়ক আব্দুল মতিনকে গত কয়েকদিনে তৃণমূলের অর্থাৎ দলের কোনও কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। তবে, এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সেই কারণেই এখানে উপস্থিত হয়েছি।”
এদিন কাকলি ঘোষ দস্তিদার কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওয়াই ক্যাটাগরির নিরাপত্তা নিয়েই বৈঠকে আসেন। তাঁকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় কেন তিনি এসেছেন, তখনও তিনি একই কথা বলেন- “প্রশাসনটা সবার আগে, এটা কোন দলীয় সভা নয়।” তবে এই ঘটনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ তৃণমূল সরকারের সময়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের সাধারণত দেখা যেত না। সেই জায়গায় এখন ভিন্ন ছবি সামনে আসছে।
উল্লেখ্য, এদিকে গত কয়েকদিন ধরেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে ঘিরে নানা জল্পনা চলছে। কিছুদিন আগে তাঁকে লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ থেকে সরানো হয়। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি অভিমানভরা একটি পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি লেখেন “দীর্ঘদিনের আনুগত্যের পুরস্কার পেলাম।” পরে তাঁর বাড়ির সামনে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাড়ানো নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। সবশেষে, গত রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জেলা সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফার কথাও ঘোষণা করেন।


