Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রাজ্যে সরকার বদলের পর থেকেই প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না তৃণমূলের (TMC) প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লা (Shaukat Molla)-কে। ভোটের ফল ঘোষণার পর তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন, কিছুদিনের জন্য স্বেচ্ছায় নির্বাচনে যাবেন। কিন্তু তারপর প্রায় দু’সপ্তাহ কেটে গেলেও তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। এর মাঝেই শওকত মোল্লা ও তাঁর ছেলে ইমরান মোল্লার (Imran Molla) বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, নদীর চর দখল করে সেখানে বেআইনিভাবে বড়সড় একটি ক্যাফে তৈরি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে ক্যানিং (Canning) এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
মৌখালী ব্রিজের কাছে মাতলা নদীর ধারে তৈরি হয়েছে ওই ক্যাফে। চারপাশে ম্যানগ্রোভ অরণ্য ঘেরা এলাকায় অনেকটা জায়গা জুড়ে গড়ে উঠেছে এই নির্মাণ। স্থানীয়দের দাবি, নদীর চর মাটি ফেলে ভরাট করেই ক্যাফেটি বানানো হয়েছে। বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, শুধু ক্যাফেই নয়, মৌখালী ব্রিজের আশপাশে বিস্তীর্ণ সরকারি জমিও একইভাবে ভরাট করা হয়েছে। পরে সেই জমি কোটি কোটি টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের।
জানা গিয়েছে, ক্যাফেটির মালিক শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লা। এলাকার মানুষের অভিযোগ, বাবার প্রভাব খাটিয়েই তিনি এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এর আগেও ইমরান মোল্লার বিরুদ্ধে এক ডেলিভারি কর্মীকে হকি স্টিক দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল।
এখানে, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। কারণ, যেখানে এই নির্মাণ হয়েছে, তার খুব কাছেই রয়েছে এসডিও ও এসডিপিও অফিস। এত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরের পাশে দিনের পর দিন নদী ভরাট ও নির্মাণ চললেও কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাদের আরও অভিযোগ, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ অনেকেই সরকারি জমি দখল করে রেস্তরাঁ, লজ-সহ বিভিন্ন ব্যবসা চালাচ্ছে। অথচ প্রশাসন সব জেনেও নীরব থেকেছে। অন্যদিকে তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হবে এবং সরকারি জমি যাতে বেআইনিভাবে হাতবদল না হয়, সেই দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।


