Aaj India Desk, পশ্চিম মেদিনীপুর: মহিলাদের আর্থিক সহায়তার জন্য চালু হওয়া এক প্রকল্প। আগে তৃণমূল (TMC) সরকারের সময় এই প্রকল্পের নাম ছিল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ (Laksmir Bhandar)। বর্তমানে বিজেপি (BJP) সরকারের আমলে সেটির নাম হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Yojona)। আগে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ১৫০০ বা ১৭০০ টাকা করে দেওয়া হত, এখন সেই টাকার পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৩০০০ টাকা। কিন্তু এখন অভিযোগ উঠেছে যে, মহিলাদের জন্য চালু হওয়া এই প্রকল্পের টাকা নাকি এক পুরুষের নামেও গিয়েছে। আর সেই ঘটনাকে ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা।
ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের মনোহরপুর এলাকার। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন তৃণমূলের এক স্থানীয় নেতা উত্তম কুমার সাউ, যিনি পেশায় ঠিকা কর্মী। বিজেপির দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তার তালিকায় উত্তমবাবুর নাম রয়েছে। একজন পুরুষের নাম কীভাবে এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হল, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের সময় প্রভাব খাটিয়ে এই সুবিধা নেওয়া হয়েছে। বিজেপি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা আইনি পদক্ষেপও করবে এবং প্রয়োজনে টাকা ফেরতের দাবিও তুলবে।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উত্তম সাউ। তাঁর দাবি, তিনি নিজের স্ত্রীর জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কীভাবে তাঁর স্ত্রীর বদলে নিজের নাম তালিকায় উঠে এসেছে, তা তিনি জানেন না। উত্তমবাবুর কথায়, অ্যাকাউন্ট এবং ফোন নম্বর তাঁর স্ত্রীরই রয়েছে, শুধু নামের জায়গায় ভুল করে তাঁর নাম চলে এসেছে। তিনি আরও বলেন, কখনও তালিকা খতিয়ে দেখেননি বলেই বিষয়টি তাঁর নজরে আসেনি। যদি কোনও ভুল হয়ে থাকে, তাহলে আইন মেনেই তার সমাধান হোক বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি, সমস্যার সমাধানের জন্য গ্রাম পঞ্চায়েতে লিখিত অভিযোগ জানাবেন বলেও বলেছেন।
এদিকে, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মাধুরী সিংহ দোলই জানান, বিজেপির অভিযোগ পাওয়ার পরই তাঁরা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন। তাঁর মতে, এটি প্রযুক্তিগত ভুলও হতে পারে। তবে বিজেপি এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। তাদের দাবি, গোটা ঘটনায় দুর্নীতির গন্ধ রয়েছে এবং তৃণমূল আমলে এমন অনিয়ম বহু ক্ষেত্রেই হয়েছে।


