Aaj India Desk, কলকাতা : গতকালই পশ্চিমবঙ্গ সরকার জেলাগুলোতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আটক রাখার জন্য হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে। এই ডিটেনশন সেন্টার তৈরির নির্দেশ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ বাড়ছে। সোমবার সরাসরি এই প্রসঙ্গে বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করে বাদ পড়া ভোটারদের হয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo)।
‘প্রমাণ কোথায়?’ প্রশ্ন সাংসদের
রাজ্য সরকারের জেলাগুলিকে হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo) বলেন, কাউকে ‘রোহিঙ্গা’ বা ‘বাংলাদেশি’ বলার আগে তার ভিত্তি পরিষ্কার করা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, “সব কিছু ‘বুলডোজ’ করা হচ্ছে এবং একাধিক আইন ভাঙা হচ্ছে। কিসের ভিত্তিতে কাউকে রোহিঙ্গা বলা হচ্ছে, সেটা আগে পরিষ্কার করা উচিত। ভোটার লিস্ট থেকে ২৭ লক্ষ মানুষকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা তার নাম দিন।”
পাশাপাশি তিনি বলেন, ডিটেনশন সেন্টারগুলিকেই নাম বদলে হোল্ডিং সেন্টার বলা হচ্ছে। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।রাজ্যে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুতে বিজেপির অবস্থানেরও সমালোচনা করেন তিনি।
নবান্নের আলোকসজ্জা নিয়েও কটাক্ষ
রাজনৈতিক মন্তব্যের পাশাপাশি নবান্ন ভবনের আলোকসজ্জা নিয়েও কটাক্ষ করেন বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo)। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে নীল সাদা রঙের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট নিয়ে অনেক কথাই বলা হয়, কিন্তু আমার বাড়ি থেকে নবান্ন দেখা যায়। সেখানে কমলা রঙের আলো লাগানো হয়েছে, সেটাও সোজা ভাবে নয়। এগুলো কি ভালো লাগে ?”
তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। যদিও রাজ্য সরকারের তরফে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
উল্লেখ্য, Foreigners Act, 1946 অনুযায়ী সরকার অবৈধ বিদেশিকে নির্দিষ্ট জায়গায় আটকে রাখতে পারে। তবে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখার আগে ব্যক্তিকে প্রমাণ করার সুযোগ দিতে হয় যে তিনি ভারতীয় নাগরিক। প্রমাণ না করতে পারলে তখন তাঁকে “declared foreigner” বলে চিহ্নিত করে তবেই ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো যায়। বর্তমান রাজ্য পরিস্থিতিতে সকল বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক এই ডিটেনশন ক্যাম্প নিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী প্রশাসনকে তাদের সকলকেই নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ ও মৌলিক সুবিধা দিতে হবে।


