Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ফলতা (Falta)-য় এবারের ভোটের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন যে, এই ফলই দেখিয়ে দিল ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর ভিত নড়ে গিয়েছে। পুনর্নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জিতেছে বিজেপি। দীর্ঘদিন ফলতার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা জাহাঙ্গীর খান (Jahangir Khan) এবার কার্যত শেষ সারিতে চলে গিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রায় ৪০ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে সিপিএম (CPM)। তবে, এই ফলাফলের পিছনে যে এক দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প রয়েছে, তা অনেকেই জানেন না।
ফলতার সিপিএম প্রার্থী শম্ভু কুর্মী গত সাত বছর ধরে নিজের বাড়িতেই থাকতে পারেননি। জানা গেছে যে, ফতেপুরের মণ্ডলপাড়ার বাসিন্দা তিনি। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের সময় থেকেই বাড়িছাড়া। বর্তমানে তিনি আমতলায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন। সেখান থেকেই প্রতিদিন ফলতায় এসে দলীয় কাজকর্ম সামলাতেন। ভোটের সময়ও প্রতিদিন যাতায়াত করে প্রচার চালিয়েছেন এবং স্থানীয় পার্টি অফিসে বসেই কর্মসূচি পরিচালনা করেছেন।
কেন তাঁকে বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল?
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থী ফুয়াদ হালিমের হয়ে সক্রিয়ভাবে প্রচারে নেমেছিলেন শম্ভু। সেই সময় তিনি ফলতা এরিয়া কমিটির সম্পাদক এবং জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন। এলাকায় সিপিএমের সংগঠন অনেকটাই তাঁর উপর নির্ভর করত। অভিযোগ, সেই সময় সিপিএমের প্রচার আটকাতে জাহাঙ্গীর খানের অনুগামীরা হামলা চালায়। ফুয়াদ হালিম, শম্ভু কুর্মী-সহ একাধিক কর্মী-সমর্থক মারধরের শিকার হন। গুরুতর আহতও হয়েছিলেন শম্ভু। এরপর থেকে তাঁর বাড়িতে বারবার হামলা ও পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখানোর অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে নিজের প্রাণ বাঁচাতে দলীয় সিদ্ধান্তে আমতলায় ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন তিনি।
তবে, এবার রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ফলতায় সিপিএম দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। এই ফলকে ঘিরে নতুন আশায় বুক বাঁধছেন শম্ভু কুর্মীও। তিনি চান আবার নিজের এলাকায় ফিরতে এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে। পাশাপাশি নতুন সরকারের কাছে তাঁর আবেদন, ফলতার মাটিতে যেন ভবিষ্যতে আর কোনও ‘জাহাঙ্গীর খান’-এর উত্থান না ঘটে।


