Aaj India Desk, কলকাতা : ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এবার পুরভোটকে সামনে রেখে সংগঠন গোছাতে সক্রিয় হল তৃণমূল কংগ্রেস। একের পর এক পুরপ্রতিনিধির ইস্তফা এবং বিভিন্ন পুরবোর্ডে অস্থিরতার আবহের মধ্যেই সোমবার কালীঘাটের বাসভবনে উত্তর শহরতলির একাধিক পুরসভার প্রতিনিধি ও বিধাননগর পুরনিগমের কাউন্সিলরদের জরুরি বৈঠকে ডেকেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
কোন কোন পুরসভা থাকছে বৈঠকে?
উত্তর ২৪ পরগনার দমদম, উত্তর দমদম, দক্ষিণ দমদম, বরানগর পুরসভা এবং বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর ও অন্যান্য পদাধিকারীদের এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পুরবোর্ডগুলির স্থায়িত্ব এবং দলীয় ঐক্য বজায় রাখাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
কী বার্তা দেওয়া হতে পারে ?
কলকাতা পুরনিগম এবং জেলা পরিষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আগের বৈঠকগুলিতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) পরিষেবা চালু রাখার উপর জোর দিয়েছিলেন। এবারও পুরসভাগুলিতে নাগরিক পরিষেবায় কোনও ঘাটতি না রাখার বার্তা দিতে পারেন তিনি। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার নির্দেশও দিতে পারেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বহু কাউন্সিলরের দলবদল বা বোর্ড ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মত একাধিক নেতা-নেত্রী ইস্তফায় ইতিমধ্যেই চিন্তিত দল। সেই প্রেক্ষিতে দলীয় প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানিয়েছেন, নির্বাচিত বোর্ড আইনত মাঝপথে ভাঙা যায় না এবং শুধুমাত্র গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বোর্ড পরিবর্তন সম্ভব। এই বার্তার মাধ্যমে কাউন্সিলরদের মধ্যে আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিভিন্ন পুরসভায় বোর্ড টিকিয়ে রাখা এখন তৃণমূলের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সেই পরিস্থিতিতে সংগঠন শক্ত করা, জনপ্রতিনিধিদের একজোট রাখা এবং জনসংযোগ বাড়ানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দল।


