Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১ জুন থেকে শুরু হবে বিজেপি সরকারের নতুন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প (Annapurna Bhandar)। এই প্রকল্পের আওতায় মাসে মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে মহিলারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। কিন্তু এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পই হয়ে দাঁড়িয়েছে জনতার হয়রানির কারণ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর এলাকায় এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। এলাকাবাসীর দাবি, প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সরকারি নির্দেশিকা বহির্ভূত বিভিন্ন নথি জমা দিতে বলা হচ্ছে তাদের। ঘটনায় এলাকা জুড়ে ছড়িয়েছে বিভ্রান্তি।
কী বলা হয়েছে সরকারি নির্দেশিকায় ?
সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছিল, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলা এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Bhandar) প্রকল্পে আবেদন করতে পারেন। আবেদনের জন্য প্রয়োজন DBT সহ আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ব্যাংক পাসবুক অথবা একটি বাতিল চেক, ডিজিটাল রেশন কার্ডের বিবরণ, একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর, পাসপোর্ট আকারের ছবি, যদি প্রযোজ্য হয় তবে এসসি/এসটি শংসাপত্র এবং যাচাইকারী কর্মকর্তা অনুরোধ করলে আয়-সম্পর্কিত নথি।
বাস্তবে কী চলছে সোনারপুরে ?
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের (Annapurna Bhandar) নাম ব্যবহার করে সোনারপুর এলাকায় মহিলাদের কাছ থেকে একাধিক ব্যক্তিগত নথির কপি নেওয়া হচ্ছে। এলাকার মহিলাদের নির্দিষ্ট অঙ্গনওয়ারি স্কুল ভবনে ডেকে তাঁদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের জেরক্স কপি, বিশেষত এই বছরের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটার স্লিপের কপি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, কিছু স্থানীয় বিজেপি কর্মী এই নির্দেশ দিয়েছে।
সরকারি নির্দেশিকার বাইরে গিয়ে এই ধরনের নথি সংগ্রহের ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার বক্তব্য, সরকারি ক্যাম্পের মতো পরিবেশ তৈরি করে নথি নেওয়া হলেও কোনও লিখিত নোটিস বা অফিসিয়াল ব্যাখ্যা তাঁদের দেখানো হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে। রাজনৈতিক সংগঠনের শক্তি ও প্রভাব প্রদর্শনের চেষ্টা থেকেই এসব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকার এক প্রবীণ মহিলা।
উল্লেখ্য, সোনারপুরের কয়েকটি এলাকায় এই প্রক্রিয়া দেখা গেলেও অন্যত্র এমন উদ্যোগের খবর পাওয়া যায়নি। সেই কারণেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত জেলা প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশনের তরফে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।


