Aaj India Desk, কলকাতা : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফের অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস। বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakali Ghosh Dastidar)। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে লেখা তাঁর ইস্তফাপত্র ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সম্প্রতি লোকসভায় তৃণমূলের চিফ হুইপ পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে (Kakali Ghosh Dastidar) সরিয়ে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় কল্যাণ ব্যানার্জিকে। তার কিছুদিনের মধ্যেই বারাসত জেলা সভাপতির পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনে জেলার ফল আশানুরূপ হয়নি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। সেই পরাজয়ের ‘নৈতিক দায়’ নিয়েই দায়িত্ব ছাড়ার আবেদন জানিয়েছেন সাংসদ।
কেনো পদ ছাড়লেন তিনি?
চিঠিতে নির্বাচনী পরাজয়ের ‘নৈতিক দায়’ নেওয়ার কথা উল্লেখ করলেও, দলের কৌশল এবং নতুন সংগঠন নির্ভর রাজনীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশেষ করে “ভুঁইফোঁড় সংস্থা দিয়ে কঠিন কাজ হয় না” মন্তব্য করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাককে পরোক্ষ আক্রমণ ও করেন তিনি। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি।
পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা
চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakali Ghosh Dastidar) লেখেন, “নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন, আপনি বিগত দিনের মতো নিষ্ঠাবান পুরনো কর্মীদের নিয়ে কাজ করলে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে বলে মনে হয়।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দলের সংগঠন পরিচালনায় নতুন মুখ ও পেশাদার নির্বাচনী কৌশলের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিরুদ্ধেই এই বার্তা দিয়েছেন তিনি। নিজস্ব সূত্র অনুযায়ী, বারাসতের তৃনমূলের পরাজিত প্রার্থী সব্যসাচী দত্তকেও তিনি পছন্দ করতেন না। এই অপছন্দের লোকেদের প্রার্থী করায় ওনার মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের।
চিঠিতে রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সাথে তিনি জানান, গত কয়েক বছরে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত ব্যস্ত থাকায় তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে উঠেছিল।
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ইস্তফা শুধুমাত্র একটি সাংগঠনিক পদত্যাগ নয়, বরং ভোট-পরবর্তী তৃণমূলের অন্দরের অসন্তোষ, নেতৃত্বের কৌশল এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। তাঁর চিঠির ভাষা ও মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। এখন নজর থাকবে, এই ঘটনাকে দল কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং এর প্রভাব আগামী দিনে তৃণমূলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা পড়ে।


